kalerkantho


অকাল বর্ষণে কাদায় ও শীতে চরম দুর্ভোগে রোহিঙ্গারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:৩২



অকাল বর্ষণে কাদায় ও শীতে চরম দুর্ভোগে রোহিঙ্গারা

ছবি: কালের কণ্ঠ

পৌষের অকাল বর্ষণে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে রোহিঙ্গারা। বর্ষণের পানিতে চলাচলের রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে গেছে। ঝুপড়ির (বস্তি) ছাউনি দিয়েও পানি পড়ে সয়লাব হয়ে পড়েছে অনেকগুলো রোহিঙ্গা বসতি। কখনো কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি আবার কখনো ভারি বর্ষণে বস্তির বাইরে যাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়েছে। আবার শীতেও কাবু হয়ে পড়েছে রোহিঙ্গা শিশু ও বৃদ্ধরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে কাদা ও পিচ্ছিল রাস্তা।

অকাল বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে এমনই দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

বিদায়ী বছরের শেষ দিন রবিবার থেকেই কক্সবাজারের আকাশ মেঘে ঢাকা পড়ে। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বর্ষণ শুরু হয়। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই মাঝারি বর্ষণে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গারা তাদের চাহিদা মতো ত্রাণ সামগ্রী পেয়ে থাকলেও হঠাৎ বৃষ্টিতে চলাচলের রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে পড়ার কারণে ঝুপড়ি থেকেই বের হতে পারছে না।

রোহিঙ্গা শিবিরের শীত বস্ত্র বঞ্চিত অধিকাংশ পরিবার শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। অপূরণীয় দুর্ভোগের শিকার এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই বৃষ্টি থেকে ছেলে/মেয়েদের রক্ষার জন্য মাথার ওপর পলিথিন দিয়ে কোনো রকম দিন কাটাচ্ছে। গতকাল সোমবার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর চিত্রই ছিল এরকম।

উখিয়ার থাইংখালী তাজনিমারখোলা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ নবী (৪৫) জানান, মাত্র কয়েকদিন আগে মিয়ানমারের সিকদারপাড়া গ্রাম থেকে এসেছেন। ছেলে-মেয়ে নিয়ে ৯ জনের পরিবার তার। এখানে এসে নিবন্ধন কার্ডও নিয়েছেন। ত্রাণ সামগ্রী হিসাবে চাল, ডাল ছাড়া আর কিছুই পায়নি। রান্না করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ছেলে-মেয়েদের খাবার দিতে পারছে না। তার ওপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে কোথাও যেতেও পারছিল না।

আফলাতুন (৫৫) নামের আরেক বয়োবৃদ্ধ জানান, তার ঘরে কেউ না থাকায় বাধ্য হয়ে দোকানে যেতে হচ্ছে খাবার কিনতে। কিন্তু রাস্তার পিচ্ছিল অবস্থার কারণে পথ এগুনো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আরেকজন রোহিঙ্গা ওই বৃদ্ধকে ধরে তাকে দোকানে এগিয়ে দিয়ে আসে।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের শেড মাঝি লালু জানান, গতকাল তার এলাকার শিবির থেকে বাইরে তেমন কোনো রোহিঙ্গার দেখা পাওয়া যায়নি। কেননা এখানে একটুখানি বৃষ্টি হলে হাটুপরিমাণ কাঁদায় পরিণত হয়। পাহাড়ী পথ হয়ে পড়ে মারাত্মক পিচ্ছিল। যে কারণে রোহিঙ্গারা ঘর থেকে বের হয় না।

উখিয়ার তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা শিবিরের শেড মাঝি ইসমাঈল জানান, 'আমরা সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কোনোভাবে দিন যাপন করছি। তবে চলাচলের রাস্তাগুলো ইট বিছানো হলে রোহিঙ্গা শিবিরের এমন দশা হতো না।' তিনি জানান, বৃষ্টি হলে শিবির থেকে শিশু-বৃদ্ধরা ছাড়াও যুবক বয়সীরাও পর্যন্ত ঘর থেকে বের হতে পারে না।

তিনি আরো জানান, গতকাল সোমবার ১১টার দিকে তার পিতা বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে কিছু দূর গেলে কাদা মাটিতে আটকে পড়ে যায়। পরে ছেলে-মেয়েরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের শেড মাঝি আবদুল হামিদ জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ পরিবারের লোকজন শীতের কাপড় পেলেও নতুন আসা রোহিঙ্গারা এখনো পায়নি। এ কারণে এসব রোহিঙ্গারাই বর্ষণজনিত শীতের কবলে পড়েছে।

রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ-দুর্দশার কথা স্বীকার করে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান জানান, বৃষ্টি হলে শিবিরের রাস্তা-ঘাটের অবস্থা সত্যিই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তবে এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য এনজিওদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরের রাস্তা ঘাটের আরো একটু উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।



মন্তব্য