kalerkantho


রাজশাহীর বারিন্দ মেডিক্যাল

অপারেশনের আগে জানা গেল রক্তের গ্রুপ 'ও' পজেটিভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:১৯



অপারেশনের আগে জানা গেল রক্তের গ্রুপ 'ও' পজেটিভ

ক্লিনিক থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীর রক্তের গ্রুপ হলো ও নেগেটিভ; কিন্তু এই গ্রুপের রক্ত সহজে পাচ্ছিলেন স্বজনরা। শেষ-মেষ অনেক কষ্টে এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করলেন স্বজনরা। সেই রক্ত হাসপাতালে গিয়ে পুনরায় রোগরীর রক্তের সঙ্গে মেলাতে গিয়ে ধরা পড়ল আগের রিপোর্টটি ভুল ছিল। রোগীর রক্তের গ্রুপ হলো ও পজেটিভ। অথচ ক্লিনিক থেকে রোগীর রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ বলে রিপোর্ট দিয়ে সেই অনুযায়ী রক্ত সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে গিয়ে আগের রিপোর্ট ভুল ধরা পড়ার পড়ে রোগীর স্বজনদের চোখ যেন ছানা-বড়া হয়ে উঠে। ভাগ্যিস রোগীর রক্তের গ্রুপটি হাসপাতালে মেলানো হয়েছিল। না হলে নিমিষেই ঘটে যেত পারতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা। আজ সোমবার এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর বেসরকারি হাসপাতাল বারিন্দ মেডিক্যালে।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে রোগীর স্বজনদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে আর ওই ক্লিনিকে রোগীর অপারেশনই করাননি তাঁর স্বজনরা। ওই রোগীটি হলেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার চৌধুরিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কানু চৌধুরীর স্ত্রী নিলুফা বেগম।

রোগীর স্বজন সাইফুল ইসলাম মনু কালের কণ্ঠকে জানান, তার আত্মীয় গাইনী সমস্যার জন্য ডাক্তার হাসিনা আক্তারের তত্ত্বাবধানে অপারেশনের জন্য রাজশাহীর বারিন্দ মেডিক্যাল কলেজে যোগাযোগ করেন। এরপর ওই মেডিক্যাল থেকে রোগীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেত বলা হয়। রক্ত সংগ্রহ করার পরেই রোগীর অপারেশন করানোর কথা ছিল। ক্লিনিক থেকে দেওয়া রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী রোগীর স্বজনরা এক ব্যাগ এ নেগেটিভ রক্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে হন্নে হয়ে খুঁজতে থাকেন। অবশেষে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক ব্যাগ ও নেগেটিভ রক্ত সংগ্রহ করেন রোগীর স্বজনরা। এরপর হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন বিভাগ থেকে ওই রক্তের গ্রুপের সঙ্গে রোগীর রক্তের গ্রুপের মিল করতে গিয়ে দেখা যায় রোগীর রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ।

ক্লিনিকের এমন ভুল ধরা পড়ার পরে আজ সোমবার আর ওই রোগীর অপারেশন করাননি তাঁর স্বজনরা।  

রোগীর স্বামী কানু চৌধুরী কালের কণ্ঠকে অভিযোগ করে বলেন, 'ক্লিনিক থেকে দেওয়া ভুল গ্রুপ অনুযায়ী রোগীর রক্ত তাঁর শরীরে পুশ করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয়। এরপর ক্ষোভে ওই ক্লিনিকে আর রোগীর অপারেশন করায়নি। বিষয়টি পরে গাইনী ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসা হাসিনা আক্তারকেও বিষয়টি জানানো হয়।

রোগীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের এমন ভুল সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল রাতে রাজশাহী বারিন্দ হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে রুমি সুলতানা নামের একজন নার্স ফোন রিসিভ করে বলেন, বিষয়টি জানি না। তবে এ নিয়ে কথা বলতে হলে সকালে যোগাযোগ করতে হবে।'



মন্তব্য