kalerkantho


গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্মাণ করলেন ভাসমান সেতু

অনলাইন ডেস্ক নিউজ   

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:০৩



গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্মাণ করলেন ভাসমান সেতু

চারপাশে বাওড়বেস্টিত গ্রাম। অনেক বছর ধরে মূল ভূখণ্ডের থেকে বিচ্ছিন্ন। এই গ্রামের মানুষ স্থানীয় উদ্ভাবন আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখন বাওড়টির ওপর তৈরি করছে এক হাজার ফুট দীর্ঘ ভাসমান সেতু।

গ্রামবাসীকে নৌকায় পারপার করতে হতো। বাজারে যেতে, শতশত শিক্ষার্থীর স্কুলে যেতে নিত্যসঙ্গী নৌকা। তাই গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ঝাঁপা গ্রামের ৫৬ জন যুবকের নিজস্ব অর্থায়নে বাঁওড়ের ওপর ভাসমান সেতু তৈরি হচ্ছে। সে ভাসমান সেতুটি ইতোমধ্যেই অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে।

যশোরের ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করছে এক হাজার ফুট লম্বা প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর লোহার সেতু। তবে কোনও পূর্ব পরিকল্পনা নয়, হঠাৎ বুদ্ধিতেই তারা শুরু করেন কাজ। নেয়নি কোনও প্রকৌশলীর মতামত। নিজেদের পরিকল্পনা দিয়েই ৮৩৯ টি প্লাস্টিকের ড্রাম, ৮শ’ মণ লোহার অ্যাঙ্গেল পাত ও ২৫০টি লোহার সিটের মাধ্যমে লোহার পাত দিয়ে একেরপর এক ড্রাম যুক্ত করে তৈরি করেছে চার ফুট চওড়া এক হাজার ফুট দীর্ঘ সেতুটি।

সেতু নির্মাণের শুরুর দিককার কথা উল্লেখ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান টুটুল বলেন, বছর খানেক আগে বাঁওড় পাড়ে বসে গল্প করছিলাম গ্রামের শিক্ষক আসাদুজ্জামানসহ ৫-৬ জন। তখন বাঁওড় থেকে মেশিনে বালি তোলা হচ্ছিল। যেই মেশিনটি রাখা হয়েছিল প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর ভাসমান অবস্থায়। তাই দেখে হঠাৎ বুদ্ধি আসে মাস্টার আসাদুজ্জামানের। ড্রাম যদি ভারী মেশিন ভাসিয়ে রাখতে পারে তবে, সেতু কেন নয়?

আসাদুজ্জামানের যুক্তি মনে ধরে উপস্থিত সবার। শুরু হয় গ্রামবাসীর সাথে বৈঠক, এরপর ফান্ড তৈরির কাজ।

মেহেদী হাসান বলেন, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আমরা গ্রামবাসীর সাথে প্রথম বৈঠকে বসি। কয়েক দফা আলোচনার পর গ্রামের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ৫৬ যুবকের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয় ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। এরপর সবাই ২০-৩০ হাজার টাকা করে জমা দিয়ে তৈরি করি তহবিল। পরে আগস্ট মাসের দিকে শুরু হয় ভাসমান সেতু তৈরির কাজ।

তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি সেতুটি জনগণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হবে। আগে খেয়া পারাপারের জন্য মাঝিদের গ্রামবাসী সপ্তাহে পাঁচ টাকা করে আর বছরে এক মণ করে ধান দিতে হত। একই খরচে গ্রামবাসী সেতুটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্য এলাকার লোকজন যেমন টাকা দিয়ে খেয়া পার হতেন, সেতু পার হতে তাদেরকে সেই খরচ দিয়ে চলাচল করতে হবে।

এই টাকা সংগ্রহ করবেন ঘাটে নৌকা চালানো সেই চার মাঝি। এতে করে মাঝিদের সংসার যেমন চলবে তেমনি উঠে আসবে সেতু নির্মাণের খরচও।

সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইলের, ভ্যান, নসিমন প্রাইভেট কারসহ মাইক্রোবাস পারাপার হতে পারবে বলে মত দেন তিনি। এদিকে বাঁওড়ের ওপর সেতু হওয়ায় খুশি ঝাঁপা এলাকার প্রায় ১৫ হাজার নারী-পুরুষ।

ভিডিও ও প্রতিবেদন তৈরিতে বিবিসি বাংলার সহায়তা নিতে হয়েছে

 


মন্তব্য