kalerkantho


পাথরঘাটায় অনৈতিক কাজ করায় গণধোলাই খেল ছাত্রলীগ নেতা

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:০৬



পাথরঘাটায় অনৈতিক কাজ করায় গণধোলাই খেল ছাত্রলীগ নেতা

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্র লীগের তিন নেতা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় গণধোলাই খেয়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছে। এলাকাবাসী ওই বখাটেদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আগেই ছাত্রলীগের নেতারা ছাড়িয়ে নেয়। গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মধ্য কালমেঘা গ্রামের খান বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। পরপর তিনটি ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের ইমেজ এখন চরম সংকটে। 

অনৈতিক কাজে জড়িত ছাত্রলীগের নেতারা হলো, পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক নাঈম ইসলাম সিজান, উপক্রিড়া সম্পাদক নাঈম ইসলাম ও অপর ছাত্রলীগের সমর্থক মো. রাব্বি। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রতক্ষদর্শী জানান, রবিবার রাতে কালমেঘা ইউনিয়নের মধ্য কালমেঘা গ্রামের খলিল খানের বসত ঘরের সামনের কক্ষে বিদ্যুতের আলোতে অপরিচিত লোক দেখলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। এ সময় ঘরের মধ্যে অপর একটি কক্ষে কালমেঘা মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে উপজেলা ছাত্রলীগের উপক্রীড়া সম্পাদক নাঈম ইসলামকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে। পরে তারা ওই তিনজনকে গণধোলাই দিয়ে স্থানীয়রা পুলিশের কাছে সোপর্দ করার চেষ্টা করলে উপজেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের তদবিরের কারণে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। 

প্রতিবেশি মো. মনির খান বলেন, নবম শ্রেণির ছাত্রীর বাবা ও মা ওইদিন কাকচিড়া ইউনিয়নে স্বজনের বাড়িতে একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যায়। এ সুযোগে বখাটে ছাত্রলীগ নেতারা ঘরে ঢুকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকায় এলাকাবাসী ধরে ফেলে। ছাত্রলীগের অপর নেতাদের চাপের মুখে তারা পুলিশের কাছে এ ঘটনা জানাতে পারেনি বলে জানিয়েছে তিনি। 

পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহাগ বলেন, এ রকমের ঘটনা শুনিনি। তবে এরকমের ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে সাংঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর দায় ছাত্রলীগ নেবেনা। 

পাথরঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা মো. খবীর আহম্মেদ বলেন, এমন ঘটনা আপনার কাছেই শুনেছি। তবে খোজ খবর নিয়ে দেখছি। 

প্রসঙ্গত: চলতি বছরের ১০ আগস্ট পাথরঘাটা কলেজের পশ্চিম পাশের একটি পুকুরের অজ্ঞাত তরুনীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ গুম করার অপরাধে পাথরঘাটা ৪ ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদেরকে দল থেকে বহিস্কার করা হয় এবং পাথরঘাটা কলেজ শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। 

এ ঘটনায় পাথরঘাটাসহ গোটা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এছাড়া অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, বৈবাহিক অবস্থা গোপন করে সদস্য হওয়া ও ভিন দলীয় ছাত্রদের ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশসহ নানা কারনে ১১ ডিসেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্র লীগের ১৩ নেতাকে অব্যহতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 

 


                                                           



মন্তব্য