kalerkantho


ঈদগড় সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:৫৮



 ঈদগড় সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন জরুরি

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নে ডাকাতি অপহরণসহ আইনশৃংখলা পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি হচ্ছে। সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী দস্যুরা প্রায়‌ই যানবাহনে ডাকাতি এবং লোকজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে। ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারীর ২৩  কিলোমিটারের এই সড়কের ৭টি পয়েন্টে সশস্ত্র দস্যুদের উপদ্রব লেগে রয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ৪৩  জনকে দস্যুরা ডাকাতি শেষে অস্ত্রেরমুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে মোটা অংকের মুক্তিপন আদায় করে তাদের ছেড়ে দেয়।

ঈদগড়-ঈদগাও সড়কে অব্যাহত ডাকাতি ও মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণের ঘটনা নিয়ন্ত্রনে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের প্রতিশ্রুতি ছিল বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের। দেশব্যাপী জঙ্গিবাদের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১১ মে রামু উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদ বিরোধী ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহজাহান  আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে জেলা প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছিলেন- ঈদগড় ইউনিয়নে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের। কিন্তু প্রতিশ্রুত সেই বিজিবি ক্যাম্প অদ্যাবধি স্থাপন করা হয়নি। বর্তমানে ঈদগড়ে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের দাবীটি এলাকাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করা হলে ঈদগড় ও বাইশারী ইউনিয়নের ৭০ হাজার অসহায় মানুষ ডাকাতি অপহরণসহ সন্ত্রাসীর কবল  থেকে রক্ষা পাবে। এরকম আশাবাদ ব্যক্ত করে ঈদগড়ে বিজিবি ক্যাম্প অনতিবিলম্বে স্থাপন করার দাবী জানিয়েছে স্থানীয়  রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ।  

এ প্রসঙ্গে ঈদগড় বাজার বনিক সমিতির সভাপতি নুরুল হুদা, ঈদগড় শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দু সালাম, ঈদগড় যুবলীগের  সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন মেম্বার, ঈদগড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সেক্রেটারি ইব্রাহীম বাবুল জানান, পাহাড়ী অরণ্যঘেরা এলাকাটিতে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন ছাড়া ৭০ হাজার মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া কিছুতেই সম্ভব নয়।

এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে ২০১৪ সালে ১৫ জন ২০১৫ সালে ১৩ জন ২০১৬ সালে ৩ জন সর্বশেষ ২০১৭ সালে ৬ জনসহ  বিভিন্ন সময় পাহাড়ী এলাকার ধানক্ষেত পাহাড়ার টংঘর থেকে আরো ৫ জনকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে মুক্তিপন আদায় ও শতাধিক বসতবাড়ীতে ডাকাতি করেছে। ডাকাতি অপহরণসহ ঈদগড় ইউনিয়নের আইনশৃংলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ প্রশাসন আপ্রাণ চেস্টা করলেও জনবল সংকটের কারনে সড়কের ৭টি পয়েন্টে ডিউটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবী করেন ঈদগড়  ক্যাম্পের দায়িত্বরত ইনচার্জ এ,এস,আই মোরশেদ আলম। 

তিনি জানান, ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পে মোট সদস্য সংখ্যা ১৯ জন তার মধ্যে প্রতিদিন ৫ জন করে ঢালায় টহল দিতে হয়। প্রতি  রাতে ১১ জন সদস্য নিয়ে পুরো ঈদগড় টহল দিতে হয়। প্রতিদিন ক্যাম্পের সেন্ট্রি ডিউটি করে ৩ জন। তিনি এলাকার  আইনশৃংখলা রক্ষায় পুলিশের আরো জনবল প্রয়োজন বলে মনে করেন।  
  


মন্তব্য