kalerkantho


বিজয় দিবসে কক্সবাজারে 'মাদার অফ হিউম্যানিটি' চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:৫২



বিজয় দিবসে কক্সবাজারে 'মাদার অফ হিউম্যানিটি' চমক

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজার স্টেডিয়ামের দলে দলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা এসে আশ্রয় নেয়। সেই রোহিঙ্গাদের সান্তনা দিতে আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী 'মাদার অফ হিউম্যানিটি'-শেখ হাসিনা। বেশ ক'জন নির্যাতিত নারী-শিশু রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ সময় দাবি জানান, অবিলম্বে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে।'

আজ শনিবার কক্সবাজার স্টেডিয়ামে এরকমই একটি দৃশ্যপটের আয়োজন করা হয়। তবে এমন দৃশ্যটি বাস্তব নয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার শহরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জব্বারিয়া একাডেমির শিক্ষার্থীরাই এমন আকর্ষণীয় শারীরিক কসরতের (ডিসপ্লে) আয়োজন করে। বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী আফিয়া জন্নাত ইফা চোখে চশমা, গলায় সাদা মুক্তার মালা এবং শাড়ি পরিধান করে প্রধানমন্ত্রীর সাঁজ গ্রহণ করে। সঙ্গে রয়েছে দেহরক্ষীও।

কক্সবাজার স্টেডিয়ামে আকর্ষণীয় এই ইভেন্ট প্রদর্শনের সময় ঘোষণা করা হয়, নির্যাতিত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'মাদার অফ হিউম্যানিটি' ঘোষণা করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটিতে 'মাদার অফ হিউম্যানিটি' সেঁজে স্কুল ছাত্রী আফিয়া জন্নাত ইফা সবার মুখে মুখে আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে।

'জয় বাংলা-বাঙ্গালীর বিজয়' শিরোনামে প্রতিষ্ঠানটির নবম ও দশম শ্রেণির আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী স্টেডিয়ামে মাত্র ৭ মিনিটের শারীরিক কসরতে (ডিসপ্লে) দর্শকদের চমকিয়ে দেয়। জব্বারিয়া একাডেমী গতকালের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যথাক্রমে বয়স্কাউট, গার্লস গাইড, কাবদল ও শারীরিক কসরতে (ডিসপ্লে) সহ ৪টি ইভেন্টে প্রথম স্থান দখল করে।

জব্বারিয়া একাডেমী পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে জানান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও পরিশ্রম করেন শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার জন্য। এ কারণেই প্রতি বছর বিজয় ও স্বাধীনতা দিবসে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ৬ বছরের ধারাবাহিক সুনাম ধরে রেখেছে।'

কক্সবাজার স্টেডিয়ামে এবার চমৎকার পরিবেশে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্টেডিয়ামে শারীরিক কসরতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ছিল বেলুন। বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠান উদ্বোধন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শত শত বেলুন উড়ানো হয়। সেই সঙ্গে উড়ানো হয় দুই শতাধিক কবুতরও। এ সময় স্টেডিয়ামের নীল আকাশ ভরে যায় কবুতর আর বেলুনে।

স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন ও পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি খোরশেদ আরা হক, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য