kalerkantho


অসময়ে বৃষ্টি; ভোলায় কৃষকের কান্না

শিমুল চৌধুরী, ভোলা   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:০১



অসময়ে বৃষ্টি; ভোলায় কৃষকের কান্না

ছবি : কালের কণ্ঠ

অসময়ে টানা ৩ দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় ভোলায় কৃষকদের ফলানো আলু, খেসারী ডাল ও সরিষাসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে কৃষকদের ক্ষেতের ফসল। এতে করে কৃষকরা মাঠে মারা পড়েছেন। যেন কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। 

কৃষি কর্মকর্তার ধারনা কৃষকদের ফলানো রবিশস্যের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অফিসের তথ্য মতে শুধুমাত্র ভোলা সদর উপজেলাতেই ৭৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এবং খেসারী ডালের আবাদ হয়েছে দুই হাজার ২৫০ হেক্টর। অসময়ে ৩ দিনের টানা বর্ষার কারনে প্রায় ৫০ ভাগ আলু ও প্রায় ৪৫ ভাগ খেসারি ডালের ক্ষতি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়ন, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন, পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন ও গুপ্তমুন্সী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকদের ফলানো আলু ও খেসারি ডালসহ বিভিন্ন রবিশস্য এখনো প্রায় এক হাত পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। কৃষকরা জানায়, গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে সব ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অসময়ে এই বৃষ্টির কারনে পঁচে গেছে আলু ও খেসারি ডালসহ বিভিন্ন রবিশস্য।

পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্তমুন্সী গ্রামের কৃষক কাজল বাদশা জানান, তিনি এবার ৫ গন্ডা জমিতে প্রায় দেড় হাজার টাকা ব্যয় করে খেসারি ডাল রোপন করেন। বৃষ্টির পানিতে তলীয়ে গেছে তার রোপন করা সেই ফসলী জমি। বৃষ্টির পানিতে তার সব খেসারি ডাল পঁচে গেছে। 
 
অসময়ে টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার কথা স্বীকার করে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন কালের কন্ঠকে বলেন, তাদের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে এখন ধান ও মুগ ডাল রোপনের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে সরকার যদি অন্তত কৃষকদের জন্য প্রনোদনা বা বিনামূল্যে বীজ বিতরণ করেন তাহলে কিছুটা হলেও কৃষকরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার চেষ্টা করবেন। 

 

 

 

 

 


মন্তব্য