kalerkantho


আদালতের আদেশের ১০ বছর পরেও ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি এই মুক্তিযোদ্ধা

জামালপুর প্রতিনিধি    

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:৫৭



আদালতের আদেশের ১০ বছর পরেও ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি এই মুক্তিযোদ্ধা

৪৫ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের ২৫ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য আদালত আদেশ দিলেও ১০ বছর পরেও টাকা পায়নি জামালপুরের মাদারগঞ্জের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম আজাদ। ওই ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মাদারগঞ্জের চর গাবের গ্রাম এলাকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রেজাউল করিম আজাদ জানান, তিনি ছিলেন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। তিনি ১৯৮৭-৮৮ অর্থ বছরে মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী-মাহমুদপুর সড়কের গোপালপুর নামক স্থানে একটি আরসিসি পাকা পুল নির্মাণের (কেয়ার-০৯ প্রকল্প) দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ পান। কার্যাদেশ পাবার পর তিনি উপজেলা প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে ১৯৮৮ সালের ১৩ মার্চ লে/আউট দিয়ে কাজ শুরু করেন। উপজেলা প্রকৌশলী তাকে যে নকশা-নমুনা প্রদান করেছিল সেটি ছিল ভুল। ভুল নকশা ও ফল্টি লেআউট দেওয়ার কারণে পুলটির স্প্যান ২ ফুট ৮ ইঞ্চি কমে যায়। যার কারণে কেয়ার কর্তৃপক্ষ একই বছরের ১০ মে ওই আরসিসি পাকা পুল নির্মাণ কাজটি বন্ধ করে দেয়। ওই কাজ করার পর নকশা ভুল হয়েছে দাবি করে কাজটি বন্ধ করায় তাকে কোনো প্রকার বিল প্রদান করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে ওই বিলের জন্য ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধর্না দিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি। অবশেষে তিনি ২০০৩ সালের ৭ আগস্ট মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে আইনগত নোটিশ প্রদান করেন। এর পরেও বিলের টাকা প্রদান না করায় তিনি ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে ২০০৪ সালে জামালপুর দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১/২০০৪ সন টাকা। 

তিনি জানান, মামলায় বিবাদী করা হয় মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলীকে। মোকাবেলা বিবাদী করা হয় জামালপুরের জেলা প্রশাসককে। আদালত ২০০৭ সালের ১৯ মার্চ ও ২৫ মার্চ দুই দফা রায়ে তাকে তার ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭২৯ টাকা ৪৫ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পরেও ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা করে ৫ বছর অতিবাহিত করেন। 

মুক্তিযোদ্ধা  আজাদ জানান, আদালতের আদেশের ৫ বছর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য জামালপুর জেলা জজ আদালতের জিপির মতামত চান। ২০১২ সালের ১ অক্টোবর জামালপুর জজ আদালতের জিপি অ্যাডভোকেট খাজা নাজিম উদ্দীন (স্মারক নং ১৯ জিপি, মতামত/১২) মতামত দেন এই মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিল করার আর কোনো সুযোগ নাই। জিপির মতামতের পরেও ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান না করায় তিনি ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। প্রধামন্ত্রী বরাবর ওই আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পান ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর।

রেজাউল করিম আজাদ জানান, ক্ষতিপূরণের টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নি:স্ব হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আদালতের বারান্দায় ঘুরতে গিয়ে আর্থিক ও মানষিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এক সময়ের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার অর্থে কোন রকমে জীবন চালাচ্ছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। 

এ ব্যাপারে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ রাসেল সাবরিন জানান, আইনগত কোন সমস্যা না থাকলে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম আজাদ যাতে দ্রুত তার ক্ষতিপূরণের টাকা পান সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবে এমন প্রত্যাশা জামালপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।


মন্তব্য