kalerkantho


নারীদের কৃষি কাজ করার বিরুদ্ধে ফতোয়া, ইমাম সহ গ্রেপ্তার ৬

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:৫৭



নারীদের কৃষি কাজ করার বিরুদ্ধে ফতোয়া, ইমাম সহ গ্রেপ্তার ৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলায় নারীদের কৃষি কাজ করার বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ায় মসজিদের ইমামসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারদের তিনজন উপজেলার কল্যানপুরের মসজিদের ইমাম। বাকীরা হলেন, আবু মুসা, মসজিদ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেন এবং সেক্রেটারি মতিয়ার রহমান।

কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি নুরানী ফেরদৌস বলেছেন, তাদের মধ্যে তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ কমিটির সদস্যরা ৮ ডিসেম্বর ওই ফতোয়া জারি করার ঘোষণা দেন। ফতোয়ায় স্থানীয় নারীদেরকে মাঠে কৃষি কাজ করতে যেতে মানা করা হয়।’

‘ওই ফতোয়ায় উৎসাহিত হয়ে স্থানীয় লোকরা ৯ ডিসেম্বর বেশ কয়েকজন নারীকে মাঠে কাজ করতে যেতে বাধা দেন। তারা এমনকি নারীদেরকে এই বলে হুমকিও দেন যে মাঠে কাজ করতে গেলে নারী শ্রমিকদের পরিণতি ভালো হবে না।’

এই খবর জানতে পেরে স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক অস্থিরতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার পরপরই ওই ৬জন আত্মগোপনে চলে গেলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। গতকাল তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর আজ বুধবার বাকী তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এএসপি নুরানী ফেরদৌস জানান, তাদেরকে বুধবার আদালতে তোলা হয়। এবং আদালত তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরো তদন্ত চলছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকেই ফতোয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ২০১১ সালে উচ্চ আদালত রুল জারি করে যে ব্যক্তিগত এবং ধর্মীয় ইস্যুতে ফতোয়া জারি করা যেতে পারে। অবশ্য ফতোয়ার মাধ্যমে কোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি দেওয়া যাবে না বলেও রায় দেন উচ্চ আদালত।

মানবাধিকার কর্মীরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রকিবাদ করেছিল। তাদের অভিযোগ এর সুযোগ নিয়ে গ্রামাঞ্চলে জাতীয় আইনের পরিপন্থী ফতোয়া জারি করবে ধর্মীয় নেতারা।

একটা সময়ে বাংলাদেশে নারীদেরকে ঘরের বাইরে একদমই কাজ করতে দেওয়া হতো না। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে এখন লাখ লাখ নারী ফসল তোলা ও ফসল কাটার মৌসুমে মাঠে কাজ করেন।

এছাড়া বাংলাদেশের সাড়ে ৪ হাজার টেক্সটাইল প্ল্যান্ট গার্মেন্টস এর ৪০ লাখ শ্রমিকের ৮০ শতাংশই নারী।


মন্তব্য