kalerkantho


আশুলিয়ায় ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:৫১



আশুলিয়ায় ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক

তিন বছরের একটি শিশুর মুখে দুধ পানের গন্ধও মিলিয়ে যায় না। সব সময় মায়ের আঁচল ধরে ঘরে-বাইরে খেলা করার কথা শিশুটির। অথচ রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় তিন বছরের একটি শিশুটিই কিনা টার্গেট হলো এক লম্পটের!

শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ৩৫ বছর বয়সের বিবাহিত এক লম্পটের বিরুদ্ধে। পুলিশ সাইম (৩৫) নামের ওই বিকিৃত রুচির ওই যুবককে আটক করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া পূর্বপাড়া রূপায়ন হাউজিং ১নং গেট এলাকার জনৈক ফিরোজ এর ভাড়া দেওয়া বাড়িতে। নিহত শিশুটির নাম আখি আক্তার ইমু।

মেয়েটির বাবা ইমরান মল্লিক জানান, স্ত্রী সাথী আক্তার (২৭), মা তাসলিমা বেগম (৫০) ও ৩ বছর ৫ মাস বয়সের কন্যা আখি আক্তার ইমুসহ তারা আশুলিয়ার জামগড়া পূর্বপাড়া রূপায়ন হাউজিং ১নং গেট এলাকায় জনৈক ফিরোজ মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করেন। তিনি জামগড়া-বটতলা এলাকায় রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার স্ত্রী স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিন তারা উভয়ে কাজে বের হয়ে গেলে শিশুটিকে তার দাদি দেখাশুনা করতেন।

প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার দুপুরের খাবার খেয়ে শিশুটিকে তার দাদির কাছে রেখে তারা স্বামী-স্ত্রী দু’জনই কাজে চলে যান। তারা যে বাড়িতে থাকেন সেই বাড়ির পাশের কক্ষে থাকেন অটোরিকশা চালক সাইম, তার স্ত্রী ও ৫ বছরের শিশু কন্যা তানজিনা। দুপুরের দিকে তারা (ইমরান ও তার স্ত্রী) কাজে চলে গেলে সাইম এর মেয়ে তানজিনা আখির দাদিকে ডেকে বলে, আখি তাদের কক্ষের সামনে পড়ে আছে।

এ সময় সাইম এর স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। পরে আখির দাদি তাকে কোলে তুলে নিজ কক্ষে নিয়ে এসে মাথায় পানি দেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় খবর দেওয়া হয় আখির মা-বাবাকে। তারা দু’জনই বাসায় এসে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আখিকে স্থানীয় নারী ও শিশু কেন্দ্র হাসপাতাল নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘাষণা করেন।

শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ওই হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক উল্লেখ করেন।

নারী ও শিশু কেন্দ্র হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানজার হারুণ অর রশিদ জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে থানায় খবর দিল পুলিশ এসে শিশুর মৃতদরহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান খন্দকার জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং) /০৩ এর ৯(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন শিশুটির বাবা। মামলায় অভিযুক্ত সাইমকে এরই মধ্যে আটক করা হয়েছ। আটক সাইম ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার চরসিরামপুর গ্রামের মৃত হাসেন আলীর ছেলে।



মন্তব্য