kalerkantho


মঠবাড়িয়া

বীজাগার অন্ধকার!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর    

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩৭



বীজাগার অন্ধকার!

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পরিত্যক্ত ইউনিয়ন বীজাগার। ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দুর্যোগ মৌসুমে কৃষি বীজ সংকট মোকাবেলায় উন্নতমানের বীজ সংরক্ষণ ও কৃষককে কৃষিতথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছিল ইউনিয়ন বীজাগার। উপজেলার ১১ ইউনিয়নে গড়ে তোলা ১১টি বীজাগারই দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে।

অবকাঠামোর বেহালে বীজাগারগুলো কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কোনো কাজে লাগছে না। সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। কৃষি পরিষেবার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের এই হালে হতাশ কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশের স্বাধীনতার আগে ও পরে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণের জন্য বীজাগার বা বীজকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। আপৎকালের জন্য বীজ সংরক্ষণ, কৃষি তথ্যসেবার পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার অফিস ও আবাসনের লক্ষ্য নিয়ে এই কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল, যাতে কৃষক কৃষি পরিষেবা সুবিধা তাঁর দোরগোড়ায় পান। কিন্তু নানা সংকটে এগুলো এখন অকার্যকর। মঠবাড়িয়ার ১১টি বীজকেন্দ্র তিন যুগের বেশি সময় ধরে অচল। সংস্কার না করায় বীজাগারের অতি পুরনো পাকা স্থাপনা বা অবকাঠামোগুলো ধসে পড়ার উপক্রম। কোনো কোনোটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সেখানে বীজ সংরক্ষণ, কৃষি প্রযুক্তি সুরক্ষা ও কৃষি বিভাগের কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমই চলছে না। উপজেলার ওই ১১টি কেন্দ্র হলো মঠবাড়িয়া সদর বীজাগার, তুষখালী ইউনিয়নের বীজাগার, বড়মাছুয়া ইউনিয়ন বীজাগার, বেতমোর (ইউনিয়ন) বাজার বীজাগার, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন বীজাগার, সাপলেজা, টিকিকাটা, দাউদখালী, মিরুখালী, ধানীসাফা ও গুলিসাখালী ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন বীজাগার। বড়মাছুয়া ইউনিয়ন বীজাগারটি মাছুয়া বাজারসংলগ্ন খালের পাড়ে। ভাঙনে এটি খালের পেটে যাচ্ছে। বেতমোর ইউনিয়ন বাজার বীজাগার, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন বীজাগার ঘিরে আছে জঙ্গল।

মঠবাড়িয়ার উত্তর সোনালী গ্রামের সফল কৃষক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, একসময় ইউনিয়ন বীজাগার থেকে কৃষকরা আপৎকালে মানসম্মত বীজ সংগ্রহ করতেন। এসব বীজকেন্দ্র থেকে কৃষকরা কৃষি বিষয়ে নানা পরামর্শ সুবিধাও পেতেন। বর্তমানে কেন্দ্রগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ কৃষির উন্নয়নে বীজাগার খুব দরকারি।

তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন বীজাগারগুলো চালু করলে কৃষি ও কৃষকের লাভ হবে।

উপজেলার মিরুখালী ও দাউদখালী কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, 'সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে বীজ সংরক্ষণ ও কৃষি তথ্যসেবার পাশাপাশি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য সিড হাউসগুলো (বীজাগার) গড়ে তোলা হয়েছিল। সংস্কার ও কার্যক্রম না থাকায় এগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে।'

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, 'কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে গড়ে তোলা এসব বীজাগারের অবকাঠামো  কয়েক যুগ ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে এখন পরিত্যক্ত। জনগুরুত্বপূর্ণ এ অবকাঠামোসহ কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের বীজাগার সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেওয়ার পর বীজাগারগুলো কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশমালা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'

 


মন্তব্য