kalerkantho


নির্যাতনের বিচার চেয়ে সাত মামলার আসামী পাথরঘাটার হারুন

বরগুনা প্রতিনিধি   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:০৯



নির্যাতনের বিচার চেয়ে সাত মামলার আসামী পাথরঘাটার হারুন

ছবি : কালের কণ্ঠ

জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে সাত-সাতটি মিথ্যে মামলার আসামী এখন পাথরঘাটার দরিদ্র তরুণ হারুন-অর-রশীদ (৪১)। আজ সোমবার বিকেলে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিপক্ষের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের কালীবাড়ি গ্রামের মৃত ছাইদুর রহমানের পুত্র হারুন অর রশিদ ও তার বড় বোন ফিরোজা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে হারুন বলেন, তিনি তার পিতার একমাত্র পুত্র। তার অপর এক চাচা তোরাব আলী ও তার ছয় পুত্র মিলে তাদের জমিজমা দখলের লোভে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ছাড়া করার পায়তারা চালিয়ে আসছে। ২০১৫ সালের ৬ মে প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাই আল আমিনের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল হারুন অর রশিদ ও তার বৃদ্ধা মা হাজেরা খাতুনকে কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। এ ঘটনায় বরিশাল মেডিকেলে দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাইসহ আটজনকে আসামী করে পাথরঘাটা থানায় ২০১৫ সালের ২২ মে একটি মামলা (নং ১৮ জিআর নং ৫২৬/২০১৫ (পাথর) দায়ের করেন। 

ভুক্তভোগী হারুন-অর-রশীদ আরও জানান, এ মামলায় পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে তার প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাইয়েরা। মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্যে একের এক হুমকি দিতে থাকে তারা। এতেও হারুনকে দমাতে না পেরে তাকে আসামী করে আদালতের মাধ্যমে ধর্ষণ চেষ্টা, মানব পাঁচার ও নারী নির্যাতনসহ একের পর এক সাতটি মামলা দায়ের করে। 

সংবাদ সম্মেলনে হারুন-অর-রশীদ বলেন, পাথরঘাটা উপজেলায় যেখানেই যে ঘটনা ঘটুক না কেন বাদী পক্ষকে মামলার খরচ দিয়ে সেসব ঘটনার সাথে জড়িয়ে তাকে আসামী করে আসছে তার প্রতিপক্ষ চাচাত ভাইয়েরা। তিনি বলেন, পৈতৃকসূত্রে পাওয়া সামান্য জমি চাষাবাদ করে দরিদ্র মা আর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনমতে চলছিলেন তিনি। এখন একের পর এক মামলার ভয়ে তিনি বাড়ি থাকতে পারেন না। একরকম পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। 

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ খবীর আহমেদ বলেন, যেহেতু হারুন-অর-রশীদের দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে সেহেতু তা এখন অদালতের বিচার্য বিষয়। তবে তার বিরুদ্ধে যদি কোন মিথ্যে মামলা হয়ে থাকে তবে সর্বোচ্চ সচেতনতার সাথে বিষয়টি দেখা হবে বলে জানান তিনি।

 

 

 

  


                                                                  

 

 

 



মন্তব্য