kalerkantho


লক্ষ্মীপুরে সেই এডিসি ও সাবেক সিভিল সার্জনের সমঝোতা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:৫৮



লক্ষ্মীপুরে সেই এডিসি ও সাবেক সিভিল সার্জনের সমঝোতা

ছবি : কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরে সেই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের মধ্যে অবশেষে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হয়েছে। এতে দু’জনের অপ্রত্যাশিত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় চিকিৎসকদের মধ্যে বৈঠক হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এ সমঝোতা হয়। এসময় তারা একে-অপরকে জড়িয়ে ধরেন।  

ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফ বলেন, আমাদের মধ্যে যে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, সেটি আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করেছি। প্রশাসনকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে ওএসডিকৃত এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলাম বলেন, এখন আমরা একে অপরকে চিনেছি, জেনেছি, বুঝেছি। একে-অপরকে চিনতে না পারায় অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটেছে। এখন আমরা লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের স্বার্থে ৪ ডিসেম্বরের ঘটনা ভুলে গেছি।

সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হোমায়রা বেগম, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আ স ম মাহতাব উদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মোস্তফা খালেদ আহমদ, জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. আশফাকুর রহমান মামুন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা পাটোয়ারী, জেলা স্বাচিপ’র নেতা ডা. জাকির হোসেন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান প্রমুখ।

 

প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে শহরের জেলা প্রশাসকের বাসভবন এলাকার কাকলি শিশু অঙ্গনের (বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রবেশমুখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও সাবেক সিভিল সার্জন শরীফের মধ্যে বাকবিতণ্ডার পর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশ দিয়ে আটক করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সালাহ উদ্দিন শরীফকে তিন মাসের বিনাশ্রম জেল দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

একদিন পর মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ২৪ ঘণ্টা পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিলের পর বিচারক মীর শওকত হোসেন পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ওই চিকিৎসকের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চিকিৎসকের কারাদণ্ডের বিষয়ে মঙ্গলবার জনস্বার্থে দুইজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন।

ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ হাজির থাকতে তলব করেছেন। এসময় সালাহ উদ্দিন শরীফকেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সেই এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়েছে। এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে পদায়ন করা হয়। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চিকিৎসক সালাহ উদ্দিন শরীফকে আপিলের প্রেক্ষিতে বেকসুর খালাস দেন।

 

 


 

 


মন্তব্য