kalerkantho


বাকৃবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির বেহাল দশা

বাকৃবি প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:১৪



বাকৃবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির বেহাল দশা

ছবি : কালের কণ্ঠ

লাইব্রেরিকে বলা হয়ে থাকে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হৃপিন্ড। প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তাকে হাসপাতালের চেয়েও বেশি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তাঁর মতে লাইব্রেরি হচ্ছে মনের হাসপাতাল। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি শিক্ষার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি নানাবিধ সমস্যায় বেহাল দশায় রূপ নিয়েছে।  

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা লগ্নে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে ৩ তলা সম্পন্ন ভবনটির আয়তন ৬৬ হাজার বর্গফুট। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬,৬৮৭ জন সেখানে লাইব্রেরীতে এক সাথে পড়ার জন্য রয়েছে মাত্র ৬০০ আসন। শুধু আসনের সমস্যাই নয়, বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ১৬০টি চেয়ারের সংকট রয়েছে।  

অন্যদিকে লাইব্রেরিটি কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) রাখার জন্য প্রস্তুত করা হলেও গত ৩ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে শীততাপ নিয়ন্ত্রণকরণ প্লান্টটি। এসি’র পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ফ্যান দেয়া হলেও তা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

 

লাইব্রেরিটিতে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন বিভাগের পাঠ্যবই, থিসিস, গবেষণা সাময়িকী, সাহিত্য ও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। বেশিরভাগ বই পুরনো এবং একই বইয়ের একাধিক কপির সংখ্যা কম থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেক সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বই পাচ্ছেন না। লাইব্রেরিতে ৭৩৮টি পিএইচডি থিসিস পেপার সহ মোট ১৬,২০৫ টি থিসিস পেপার রয়েছে। কিন্তু সবগুলো থিসিস পেপার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় না।  

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বাইরের কোনো বই নিয়ে আমরা লাইব্রেরিতে ঢুকতে পারি না। এ কারণে আমরা লাইব্রেরির বই ছাড়া আমাদের নিজস্ব বই পড়ার সুযোগ পাই না। লাইব্রেরিতে বাইরের বই নিয়ে গিয়ে পড়ার জন্য আলাদা একটি রুমের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।  

বই পুস্তকের পাশাপাশি লাইব্রেরিতে রয়েছে একটি সাইবার সেন্টার। সেখানে ২৫টি কম্পিউটার থাকলেও মাত্র ৫-৬টি কম্পিউটার ব্যবহারের উপযোগি। এছাড়াও রয়েছে একটি অত্যাধুনিক এবি স্ক্যানার যা দিয়ে পুরনো ও অব্যবহারযোগ্য বইপত্র ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হত। কিন্তু এখন টেকনিশিয়ানের অভাবে তা কোনো কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এছাড়াও ফ্যানের সংকটের কারণে গরমের সময় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারেন না বলেও অভিযোগ করেছেন।

লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। ফলে মাঝে মধ্যেই সাইকলে চুরির ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সব দিনই সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে এবং শনিবার অর্ধদিবস খোলা থাকে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শুক্র ও শনিবারও পূর্ণসময় লাইব্রেরি খোলা রাখার জন্য দাবি করেন।  

লাইব্রেরি সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান ড. মো. এনামুল হক বলেন, লাইব্রেরির সমস্যাগুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছি। খুব দ্রুতই সমস্যাগুলো সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো আমাদের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটিকে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারলে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উপর চাপ কমবে ফলে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই তাদের হাতের নাগালে বই পেয়ে যাবেন। এতে আমরা একসাথে অনেক বেশি শিক্ষার্থীকে লাইব্রেরির কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারবো।  

 

 

 

 

 

 

 


 


মন্তব্য