kalerkantho


রামুর ৮টি গ্রামে বিদ্যুৎ পেয়ে আনন্দে মাতোয়ারা গ্রামবাসী

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:৫৫



রামুর ৮টি গ্রামে বিদ্যুৎ পেয়ে আনন্দে মাতোয়ারা গ্রামবাসী

‘যেন চেরাগের নিচে অন্ধকার’-এমনই প্রবাদ বাক্যের ৮টি গ্রামই আকস্মিক আলোয়ভেসে উঠল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই জ্বলে উঠল বৈদ্যুতিক বাতি।

চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল আলো। আলোকিত হল চিরকালের অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রামীণ জনপদ। সে এক মহা আনন্দের সময়। এলাকার মানুষও আজ আনন্দে আত্মহারা। গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কারণে গ্রামবাসী মেতে উঠেছে উৎসব-আনন্দে।

এমন দৃশ্যপট কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের এক দুর্গম এলাকার। রামু উপজেলা সদর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দুরত্বের হলেও চিরকালই এখানকার ৮ টি গ্রাম পড়েছিল অন্ধকারে। রামুর কাউয়ারখোপের এই ৮ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষই যেন এতকাল ধরে আদিম যুগের বাসিন্দার মতই জীবনযাপন করেছেন। চলাচলের রাস্তাও ছিল না এতকাল।

সম্প্রতি রাস্তা হয়েছে। তারপর গেছে বৈদ্যুতিক বাতির আলো।

রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা, লামারপাড়া, স্কুল পাড়া, বড়ুয়া পাড়া, মিয়াজী পাড়া, সওদাগর পাড়া, গনিয়াকাটা ও গুদামকাটাসহ ৮টি গ্রাম কেবল একটি সুইচ অন করার সাথে সাথেই আলোকিত হয়ে উঠে।  

গতকাল বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যার পর রামু-কক্সবাজার সদর আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল বৈদ্যুতিক সুইচ অন করেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভোধন করলেন গ্রামীণ জনপদ আলোকিত করার কর্মসুচি।

অবহেলিত জনপদে বিদ্যুত সংযোগ উপলক্ষে ৮ টি গ্রামের মানুষ জেগেছে। এই ৮ গ্রামের মানুষ গতকাল দিনব্যাপী উৎসবে মেতে উঠেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য সওদাগর ঘোনায় আয়োজন করা হয়েছে এক বড় অনুষ্ঠানের। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে বিদ্যুৎ উদ্ভোধনের অনুষ্ঠান স্থল পর্যন্ত গ্রামের লোকজনই অতিথিদের বরণের জন্য ২০ টি তোরণ নির্মান করে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরেই বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ কর্মসুচি প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষিত কর্মসুচিরই অংশ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডেও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী রিয়াজুল হক জানান, এগারশ কোটি টাকার এ প্রকল্পটির আওতায় কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ১৮ কিলোমিটার এলাকা বিদ্যুতায়তনের কর্মসুচি রয়েছে। তন্মধ্যে ৫ কিলোমিটার এলাকা বিদ্যুতায়তনের আওতায় আনা হয়েছে কাউয়ারখোপের এই অবহেলিত ৮ টি গ্রাম। এই ৮ গ্রামে গতকাল একদিনেই ২০০ টি ঘরে এক সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আনন্দে কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি মেম্বার আনারকলি গতকাল শতাধিক অতিথিকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। তিনি জানান, ‘এতকাল ধরে আমাদের ঘরে বিদ্যুৎ ছিল না। আমাদের ছেলেমেয়েরা কুপি বাতির আলোতে লেখাপড়া করেছে। আজ আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়ে মহাখুশি।

কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য এবং কাউয়ারখোপের বাসিন্দা শামশুল আলম জানান, আমরা এলাকার মানুষ বহুকাল ধরে চেষ্টা করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। আজ বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার কারণেই আজ আমরা চিরঅবহেলিত এলাকার মানুষ বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত হয়েছি।  


মন্তব্য