kalerkantho


নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে

গফরগাঁওয়ে ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে বাল্যবিয়ে

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি    

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:১৯



গফরগাঁওয়ে ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে বাল্যবিয়ে

প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিকেলে বাল্যবিয়ে বন্ধ করার পর রাতেই তিন ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে পুনরায় বাল্য বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাতে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ছয়ানী রসুলপুর গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছয়ানী রসুলপুর গ্রামের আবু সাঈদের মেয়ে ও আবু জান মড়ল দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন এর সাথে উপজেলার সান্দিয়াইন গ্রামের জয়নাল শিকদারের ছেলে দিদারুল ইসলামের বিয়ে ঠিক হয়। গত বুধবার বিকেলে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হলে এলাকাবাসী বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাক্তার শামীম রহমানকে অবহিত করেন।  

নির্বাহী কর্মকর্তা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকে বাল্যবিয়েটি বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ও সংরক্ষিত সদস্য আছমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে চলে আসেন। কিন্তু বুধবার রাতেই ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, সংরক্ষিত সদস্য আছমা খাতুন ও আফছর আলী ভুলু মেম্বারের উপস্থিতিতে পুনরায় বাল্যবিয়েটি সম্পন্ন হয়।

এ ব্যাপারে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আছমা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিয়ের সময় উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি চেয়ারম্যানের সাথে গিয়ে কনের নিবন্ধন না থাকায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করে চলে এসেছি। আর কিছু জানিনা। অপরদিকে ইউপি সদস্য আফছর আলী ভুলু বলেন, আমি একা ছিলাম না বিয়ের সময় আমার সাথে ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ও আছমা বেগমও ছিলেন।

ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বিয়ের সময় উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন চেয়ারম্যানের সাথে গিয়ে আমরা বিয়ে বন্ধ করে চলে এসেছি।

ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে বলায় আমি ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ নিয়ে বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়েটি বন্ধ করে চলে আসি। শুনেছি পরে রাতেই বিয়েটি হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাক্তার শামীম রহমান বলেন, আইনের দুর্বলতার কারণে বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা সম্ভব হয়না। বাল্যবিয়ের আইনটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিডিউলভুক্ত না হওয়ার জন্যও কিছু করা যায়না। তা ছাড়া বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে কেউ মামলার বাদী হতে চান না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হলেও পরে গোপনে বিয়ে হয়ে যায়।  

 


মন্তব্য