kalerkantho


স্ত্রীর লাশ দেখতে এসে স্বামীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



স্ত্রীর লাশ দেখতে এসে স্বামীর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে স্ত্রীর লাশ দেখতে এসে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম সৃষ্টি হয়েছে। ওই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৪টার মধ্যে দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের বামনিসার (আজিজনগর) গ্রামের প্রয়াত আ'লীগ নেতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক এম এন এ আব্দুল আজিজ খানের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ওই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বামনিসাইর (আজিজনগর) গ্রামের আজিজ খানের বাড়ির মো. আনোয়ার হোসেন খানের স্ত্রী রিফা আক্তার খানম (২৪) বাড়ির পাশের পুকুর ঘাটে বসে মোবাইল ফোনে ঢাকার রামপুরায় পোশাক কারখানায় কর্মরত স্বামী আনোয়ারের সঙ্গে ইমুতে কথা বলছিলেন, হঠাৎ তার হাত থেকে মোবাইল ফোন সেটটি পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। রিফা আক্তার ওই মোবাইল সেটটি পানি থেকে তুলতে যেয়ে আর উঠে আসতে পারেনি। পরিবারের লোকজন রাত হয়ে যাওয়ার পরও রিফা ঘরে ফিরে না আসায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রিফা আক্তার সাঁতার জানতনা এবং সে মৃগী রোগী ছিল।

স্বামী আনোয়ার হোসেন (২৮) ওই সংবাদ পেয়ে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে ভোর রাতে কংশনগর হয়ে পায়ে হেটে 'ফুলতলী-বামনিসার ব্রিজ সংলগ্নে অচেতন হয়ে পড়ে ছিল। ওই সময় ট্রাক্টরের মাটি কাটা শ্রমিকরা যাওয়ার পথে আনোয়ারকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে তার পরিবারের লোকজন দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক আনোয়ার হোসেনকেও মৃত ঘোষণা করেন।

সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আসাদুর ইসলাম একদল পুলিশ নিয়ে সোমবার রাতে মৃত রিফা আক্তারের লাশ এবং মঙ্গলবার সকালে তার স্বামী আনোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধার পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন।

স্থানীয়রা আরো জানান, আনোয়ার হোসেন ও রীফা আক্তার সম্পর্কে চাচাতো ও জেঠাতো ভাইবোন। তাদের প্রেমের বিয়ে হওয়ার ওদের আন্তরিকতা ছিল বেশি। যার কারণে রিফার মৃত্যু সংবাদটি তার স্বামী সহ্য করতে পারেনি। বাড়ি আসার পথে স্ত্রী হারানোর শোকে তার হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

তবে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আজিজ খানের ভাতিজা ও প্রবীন রাজনীতিক মৃত লতিফ খানের পুত্র নূরুল আমিন সেলিম খান জানান, ঘটনাটি অসচেতনতার কারণেই ঘটেছে। রিফা তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলার সময় ফোনসেটটি বন্ধ হওয়ার পর বাড়ির লোকদের ফোন করে জানাতে পারত, তাহলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব ছিল। যার কারণে তার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘসময় ধরে সন্ধানের এক পর্যায়ে পুকুর থেকে উদ্ধার করে। অপরদিকে তার স্বামী রাতে আসায় বিলম্বের কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানা দরকার ছিল।

তা ছাড়া সে জাফরগঞ্জ স্টেশন দিয়ে না এসে কংশনগর দিয়ে চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যখ্যাত ঝুকিপূর্ণ এলাকা দিয়ে একাই পায়ে হেটে আসছি। যে জায়গায় তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই জায়গাটিতে আরো একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আনোয়ার স্ট্রোক করে কিংবা ছিনতাইকারীদের হাতে তার মৃত্যুর আশঙ্কাও করা হয়। পুলিশ আনোয়ার হোসেন হৃদক্রিয়া যন্ত্র বন্ধ হয়ে এবং রিফা আক্তার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা পোষণ করলেও বিতর্ক এড়াতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর পূর্বে বামনিসাইর গ্রামের প্রয়াত আব্দুল আজিজ খানের বাড়ির মোখলেসুর রহমান খানের পুত্র আনোয়ার হোসেন খানের সঙ্গে মো. হাবিবুর রহমান খানের কন্যা রিফা আক্তার খানমের বিবাহ হয়। তাদের কোনো সন্তানও ছিল না। সম্পর্কে ওরা চাচাতো ভাইবোন ছিল। প্রেমের ঘটনায় ওই বিবাহ বন্ধন হয়েছিল বলে জানা যায়।

আনোয়ারের বড় বোন শিউলী বেগম বলেন, তাঁর ভাই ঢাকার রামপুরার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদে দেখতে আসার পথে তারও মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) সাইদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক ধারনায় স্বামী আনোয়ার হোসেন খান হৃদক্রিয়া যন্ত্র বন্ধ হয়ে এবং মৃগীরোগে আক্রান্ত স্ত্রী রিফা আক্তার খানম পানিতে ডুবে মৃত্যুর আশঙ্কা করা হলেও স্থানীয়দের মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে উভয় ঘটনায় দুটি আলাদা অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।


মন্তব্য