kalerkantho


স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কবিরাজ আটক

মাদারীপুর প্রতিনিধি    

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৪৭



স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কবিরাজ আটক

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে মোয়াজ্জেম হোসেন (৫০) নামের এক কবিরাজের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মিল্কভিটা রোডে মোহাম্মাদিয়া দাওয়াখানায় চিকিৎসা নিতে আসা নবম  শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাকিম মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

পারিবারিক, স্থানীয়, ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজৈর উপজেলার পশ্চিম কোদালিয়া বাজিতপুর থেকে নাকের পলিপাস চিকিৎসার জন্য মা তার নবম  শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে টেকেরহাট বন্দরের মোহাম্মাদিয়া দাওয়াখানার কবিরাজ হাকীম মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে যান। এ সময় কবিরাজ ওই মেয়েকে দেখে মেয়ের মাকে বলেন, 'আপনার মেয়েকে জাদু করে নষ্ট করা হয়েছে। তাই আপনার মেয়েকে ভালো করার জন্য একই উপজেলার আমগ্রাম পীরের বাড়ির মসজিদের মাটি ও গোলাপ জল আনতে হবে। সেই মাটি ও গোলাপজল দিয়ে চিকিৎসা করা হবে। '

কবিরাজের কথামত ছাত্রীর মা মেয়েকে বসিয়ে রেখে মাটি ও গোলাপজল আনতে আমগ্রামে যান। এই সুযোগে কবিরাজ হাকিম মো. মোয়াজ্জেম ওই ছাত্রীকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় ছাত্রীর সঙ্গে  অশালীন আচরণসহ আপত্তিকর স্থানে হাত দেন। পরে এ ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করা হয়।

মাটি ও গোলাপজল নিয়ে মা ফিরে এলে ওই ছাত্রী মাকে বিষয়টি জানায়। এ নিয়ে কবিরাজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলে স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন কবিরাজকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন। ওই ছাত্রীর মা বলেন, "আমাকে কৌশলে অন্যত্র পাঠিয়ে ওই  কবিরাজ আমার মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে। আমি এর বিচার চাই। "

রাজৈর থানার ওসি (তদন্ত) সিরাজুল হক সরদার বলেন, "টেকেরহাট বন্দরে মোহাম্মাদিয়া দাওয়াখানার কবিরাজ হাকিম মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক করা হয়েছে। " এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোহাম্মাদিয়া দাওয়াখানার কবিরাজ হাকিম মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, "আমি এসব কিছুই করিনি। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। " 


মন্তব্য