kalerkantho


রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগের আমলেই সংখ্যালঘুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

রংপুর অফিস   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ২২:০৫



আওয়ামী লীগের আমলেই সংখ্যালঘুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

ছবি: কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগের আমলেই এ দেশের সংখ্যালঘুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার দুপুরে রংপুর সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়ায় হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু বাড়িঘর পরিদর্শনে এসে এমন মন্তব্য করেন।

এলাকা পরিদর্শন করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হিন্দুদের ওপর সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে। আওয়ামী লীগের আমলেই হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে, বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরপাড়া ঘুরে দেখে মির্জা ফখরুল ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার করে টাকা এবং শতাধিক শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেন।

ঠাকুরপাড়া গ্রামের খগেন রায়ের ছেলে টিটু রায়ের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে গত ১০ নভেম্বর ওই গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের মিছিল থেকে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও আগুন  দেওয়া হয়। এতে অভিযুক্ত টিটু রায়ের বাড়িসহ ১০ পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সৃষ্ট সংঘর্ষে একজন নিহত এবং পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

পরিদর্শন শেষে ঘটনাস্থলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে আমরা সবাই একই বন্ধনে বসবাস করি।

কিন্তু এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাতে ফাটল ধরায়। রংপুরের ঠাকুরপাড়াতেও ওই দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালিয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সুষ্ঠু তদন্ত হলেই তা বেরিয়ে আসবে। ঠাকুরপাড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিএনপিও একটি 'তদন্ত দল' পাঠাবে বলে জানান তিনি।

রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর জেলার সভাপতি ইনামুল হক মাজেদীর জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, কোথাও এমন ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত ছিল না। রামুর ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতারা জড়িত। নাসিরনগরেতো উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে হামলা হয়েছে তা সবাই দেখেছে। ঠাকুরপাড়ায় যদি দুই একজন থেকে থাকে তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত অপরাধ। এ জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। দল, দলের নেতারা বা আমাদের যারা সত্যিকারের সামনের লোক তারা কখনো এসব কর্মকাণ্ডে জড়াবে না।

আওয়ামী লীগ বরাবরই অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে কোণঠাসা করে ২০১৪ সালের মতোই আবারো বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন সত্য কথা বলা যায় না। বিচারালয়, গণমাধ্যম তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করার কারণে প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছাড়তে হয়েছে।

এ ছাড়া রবিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদেরের সঙ্গে একই বিমানযোগে রংপুরে না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার থেকেই তিনি ওইদিনের কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবে এবং সেখানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সাবেক সংসদ সদস্য পরিতোষ চক্রবর্তী, জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রইচ আহম্মেদ, রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক ঝন্টু, মহানগর যুবদল সভাপতি মাহফুজ উন নবী ডন, সাধারণ সম্পাদক লিটন পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম নয়নসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য