kalerkantho


জোর করে বাল্যবিয়ে, এক মাসের মাথায় আত্মহত্যা স্কুলছাত্রীর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০৯:৩১



জোর করে বাল্যবিয়ে, এক মাসের মাথায় আত্মহত্যা স্কুলছাত্রীর

ছবি প্রতীকী

মাসখানেক আগে বাল্যবিয়ের শিকার হয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী যুঁথি আখতার (১৫)। শনিবার রাতে ঘরের ভেতর থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার বলছে, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করেছে।

যুঁথি খুলনা সদরের পশ্চিম বানিয়াখামার আন্দিরপুকুর পাড়ের আবুল কালামের মেয়ে এবং পশ্চিম বানিয়াখামার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় তার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে নিরালা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বাল্যবিয়ে ঠেকানো সেই শারমিন এখন বিশ্বমুখ

পুলিশ, যুঁথির পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, মাসখানেক আগে পরিবারিকভাবে যুঁথির বিয়ে হয় ঢাকায় কর্মরত মো. হাবিবুল্লাহর সঙ্গে। হাবিবুল্লাহ ঢাকায় ইলেক্ট্রিশিয়ানের কাজ করেন। এক সপ্তাহ আগে তিনি খুলনায় আসেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে যুঁথির মা হাবিবুল্লাহকে ঢাকার গাড়িতে তুলে দিতে নগরীর রয়াল মোড়ে যান। সেখান থেকে মা বাড়ি ফিরে দেখতে পান ঘরের আড়ার সঙ্গে যুঁথির লাশ ঝুলছে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'যুঁথি এই বিয়েতে রাজি ছিল না। তবু জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। '

'তদন্ত ছাড়া বাল্যবিয়ের অনুমোদন নয়'

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মোমতাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। তবে কেউ বাল্যবিয়ের বিষয়টি পুলিশকে জানায়নি। '

স্থানীয় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিবাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) মাওলানা জিন্নাত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বানিয়াখামার এলাকার বিবাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করলেও ওই বিয়েতে আমি কাজি ছিলাম বলে মনে হয় না। এ ধরনের স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে আমি বিধিনিষেধগুলো মেনে চলি। সম্ভবত বাইরের কাজি এ বিয়ে পড়িয়েছিলেন। '

বানিয়াখামার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার পর যুঁথি স্কুলে আসেনি। স্থানীয়রা জানিয়েছিল, তাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার আত্মহত্যার খবর জেনেছি। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। '


মন্তব্য