kalerkantho


ভয় দেখিয়ে পেট কাটলেন ডাক্তার, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ২২:১৬



ভয় দেখিয়ে পেট কাটলেন ডাক্তার, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

কেরানীগঞ্জের সাজেদা হাসপাতালে ভয় দেখিয়ে এক গৃহবধূর পেট কাটার ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগটি তদন্ত করছেন এসআই শফিউল আজম। শনিবার তিনি সরেজমিন ওই হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই শফিউল আজম পিপিএম জানান, হাসপাতালে গিয়ে ডা. কাবেরী সালাম ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হলে তারা প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টে ভুলের বিষয়টি তুলে ধরে পুলিশকে জানান, রিপোর্টে ভুলের কারণে তারা ওই রোগীর অপারেশন করেছেন। এ জন্য দায়ী মূলত রাজধানীর পুরান ঢাকার জনসন রোড শাখার মেডিনোভা মেডিক্যালে সার্ভিস লি. কর্তৃপক্ষ। তারা আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রোগীর যে রিপোর্ট তৈরি করে পাঠিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, জরায়ুতে বাচ্চা নেই। এজন্যই রোগীর অপারেশনের দরকার পড়েছে। বিষয়টি তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলবে বলে জানিয়েছেন।

তবে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী আবু জাফর জানিয়েছেন, তারা ডা. কাবেরী সালামের কাছে প্রেগনেন্সি টেস্ট করাতে গেলে তিনি আলট্রাসনোগ্রামসহ বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা মেডিনোভা থেকে করে নিয়ে আসতে বলেন। তার কথা মত সেখান থেকে আমরা রিপোর্টগুলো করি।

পরে ওই রিপোর্ট নিয়ে ডা. কাবেরী সালামের কাছে গেলে জানান, রিপোর্ট খুব খারাপ। দ্রুত রোগীর অপারেশন করতে হবে। রোগী প্রেগনেন্সি টেস্টে পজেটিভ হলেও জরায়ুতে বাচ্চা নেই। বাচ্চা টিউবের মধ্যে দ্রুত অপারেশন না করলে রোগীর টিউব ফেটে রোগী মারা যেতে পারে। আবু জাফর আরো জানান, মেডিনোভা থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ডা. কাবেরী সালাম রেফার্ড করেছেন। রিপোর্টে ভুল আসলে সে দায়িত্ব যেমন ডাক্তারের তেমনি সংশ্লিষ্ট ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের। কারণ ওই ডাক্তার সেখান থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে রোগীকে পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে মেডিনোভা মেডিক্যাল লি. পুরান ঢাকার জনসন রোড রথখোলা শাখার পরিচালক হাসিবুর রহমান জানান, সাধারণত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ডাক্তাররা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তবে এটাও ঠিক সব সময় নির্ভুল রিপোর্ট হয় না। তাছাড়া আলট্রাসাউন্ড রিপোর্ট ৯০ ভাগ সঠিক হয়ে থাকে। পুরো বিষয়টি জেনে বলা যাবে এখানে কার ভুল হয়েছে।

এ ব্যাপারে আজ রবিবার সন্ধ্যায় সাজেদা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা থেকে রবিবার দুপুরে একজন এস আই হাসপাতালে তদন্তে এসেছিলেন। তার সঙ্গে কথা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পুলিশ আসার পর জেনেছি রোগীর স্বামী আমাদের হাসপাতালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে আমি হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগকারীর সঙ্গে সমঝোতায় বসবো।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। একজন অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলেছেন। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


মন্তব্য