kalerkantho


সোনাদিয়া দ্বীপের 'রাজা' জাম্বু র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত

৪৪ অস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৩২



সোনাদিয়া দ্বীপের 'রাজা' জাম্বু র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের 'স্বঘোষিত রাজা' জাম্বু বাহিনীর প্রধান দুর্ধর্ষ জলদস্যু সর্দার মোকাররম হোসেন জাম্বু (৩৮) র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। আজ রবিবার বিকালে মহেশখালী দ্বীপের কুতুবজোম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জাম্বু বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এ সময় র‌্যাবের প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপী গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। নিহত জাম্বু ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মহেশখালী দ্বীপের শীর্ষ স্থানীয় সন্ত্রাসী।

র‌্যাব এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল তল্লাশি করে সর্বমোট ৪৪টি অস্ত্র (০১টি ৭.৬৫ মি. মি. বিদেশি পিস্তল, ২৩টি ওয়ানশুটার গান, ২০টি এসবিবিএল), ১টি ম্যাগাজিন, ১,২১৫ রাউন্ড গুলি/কার্তুজ (৫৭x.১২ বোর, ০৩x.৩০৩ মি. মি., ৩১x.২২ মি. মি., ২x৭.৬৫ মি. মি. পিস্তল এবং ১,১২২x৫.৫ মি. মি.) এবং ২৭ রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করে।

রবিবার ঘটনার বিবরণ দিয়ে র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল সমুদ্রে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানাধীন সোনাদিয়ার কুতুবজোম এলাকায় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে।   উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল দুপুর ২টার দিকে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল উক্ত স্থানে ছুটে যায়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের (র‌্যাব) লক্ষ্য করে এলোপাতাড়িভাবে গুলি বর্ষণ শুরু করে।

র‌্যাব সদস্যরা জানায়, তারাও আত্মরক্ষায় সরকারি জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। প্রায় ৩০ মিনিট গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

তাত্ক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। উক্ত ঘটনায় ২ জন র‌্যাব সদস্য আহত হলে তাদের প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান করা হয় বলে জানান র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, নিহত দস্যু বাহিনী সর্দারের বিরুদ্ধে কেবল মহেশখালী থানায় রয়েছে ৮টি মামলা। এসবের মধ্যে হত্যা, দস্যুতা, অপহরণ ও অস্ত্র আইনসহ নানা অপরাধের মামলা রয়েছে। ওসি আরো জানান, এ ঘটনার কয়েক বছর আগেও নিহত দস্যু সর্দার জাম্বু র‌্যাবের সঙ্গে আবারো সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। সেবার তার পা হারিয়েছিল। পঙ্গু অবস্থায়ও জাম্বু থেমে থাকেনি। মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপ সন্নিহিত সাগরের বুক জুড়ে জাম্বু বাহিনীর একচেটিয়া দাপট ছিল। সাগর উপকূলে দস্যুতা করেই জীবনের ৩টি যুগ কাটিয়ে দিয়েছে দুর্ধর্ষ জাম্বু সর্দার।

মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের লোকজন জানিয়েছেন, সোনাদিয়া দ্বীপের আদিবাসিন্দা পরিবারের সন্তান এই দুর্ধর্ষ জলদস্যু বাহিনীর প্রধান জাম্বু। তার বাবা মরহুম এখেলাসুর রহমান ওরফে এখেলাস মেম্বার ছিলেন সাবেক ইউপি মেম্বার। এখেলাস মেম্বারের পুত্র জাম্বুর দলে রয়েছে ৩০/৪০ জনের সদস্য। জাম্বু বাহিনীর লুটপাট এবং অত্যাচার থেকে কক্সবাজার উপকূলের খুব কমসংখ্যক জেলে অক্ষত রয়েছে।


মন্তব্য