kalerkantho

রাত ভয়ঙ্কর!

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে আতঙ্ক

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:৪২



রাত ভয়ঙ্কর!

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের ৩৪ কিলোমিটার পথ রাতের বেলা চলাচলে যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হঠাৎই যেন ভয়ঙ্কর হয়েছে এ পথে রাতের বেলায় যানবাহন চলাচল।

পুলিশ বলছে, দুইটি ঘটনায় জড়িত একটি গ্রুপকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাঁচজনের একটি গ্রুপ এ ঘটনা ঘটায়। খুব শিগগিরই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উল্লেখিত সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে আশুগঞ্জের বেড়তলা এলাকায় খুন হন মো. রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক মাছ ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার শাহপুর গ্রামের মো. ছদর মোল্লার ছেলে। মাছ বোঝাই ট্রাক নিয়ে সিলেট যাচ্ছিলেন রফিকুল ইসলাম। রাত আড়াইটার দিকে মহাসড়কের সরাইলের বেড়তলা এলাকায় পৌঁছার পর ভ্যানটিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়। গাড়ির কোনো সমস্যা হয়েছে ধারণা করে চালক অনতিদূরেই থামিয়ে ফেলেন।

এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন প্রথমে ট্রাক চালককে জিম্মি করে। এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ী রফিকুল ও চালক, হেলপারকে ফেলে পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও পরে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করে।

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর গভীর রাতে আশুগঞ্জে খুন হয়েছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সোয়ারগাঁও গ্রামের কামাল আহমেদ নামে এক ফার্ণিচার ব্যবসায়ী। হবিগঞ্জ ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জের বাহাদুপুর এলাকায় কামাল আহমেদকে বহনকারী পিকআপ ভ্যানের গতিরোধ করে এর নিয়ন্ত্রণে নেয় হামলাকারীরা। পরদিন সকালে তালশহর-বাহাদুরপুর সড়ক থেকে পুলিশ কামাল আহমেদের লাশ উদ্ধার করে। শায়েস্তাগঞ্জ থেকে আটক করা হয় পিকআপ ভ্যানটি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ থেকে সিলেট পর্যন্ত ২২৬ কিলোমিটার পথের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশে পড়েছে ৩৪ কিলোমিটার। ওই অংশটুকু হচ্ছে, আশুগঞ্জের মেঘনা সেতু থেকে বিজয়নগরের সাতবর্গ এলাকা পর্যন্ত।

খাঁটিহাতা হাইওয়ের পুলিশের ইনচার্জ মো. ইউনুস মিয়া বলেন, একটি পিকআপ নিয়ে কখনো ইমার্জেন্সি ডিউটি, কখনো সড়ক দুর্ঘটনার কাজে, কখনো টহলে যেতে হয়। তবে একসঙ্গে একাধিক কাজ হলে সমস্যা দেখা দেয়। লোকবল বাড়ানোর পাশাপাশি আরেকটি পিকআপ ভ্যান হলে ভালো হয়। দুইটি ঘটনার পর সড়কে আগের চেয়ে টহল বাড়ানো হয়েছে।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, প্রায় একই কায়দায় দুইটি ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে পাঁচ সদস্যের একটি চক্র জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছি। জড়িতরা চিহ্নিত ডাকাত। তাদেরকে গ্রেপ্তার এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সরাইলে অংশে থানা পুলিশের একাধিক টিমও রাতের বেলা টহলে থাকে বলে তিনি জানান।

আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল আলম তালুকদার জানান, সরাইলের ঘটনায় যাদেরকে সন্দেহ করা হচ্ছে তারাই আশুগঞ্জের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে আমরা জানতে পেরেছি। একটি পিকআপ ও একটি মাইক্রোতে করে থানা পুলিশের দুইটি দল মহাসড়কের আশুগঞ্জ অংশে টহল দেয় বলে তিনি জানান।


মন্তব্য