kalerkantho


মণিরামপুরে দিনমজুরকে গলা কেটে হত্যা

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১৪:৫৮



মণিরামপুরে দিনমজুরকে গলা কেটে হত্যা

যশোরের মণিরামপুরে আকবার আলী (৫৫) নামের এক দিনমজুরকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত আকবার আলী যশোর সদর উপজেলার ডহরসিংগা গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।

গত ১৪ বছর ধরে তিনি মণিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চী কৃষ্ণবাটি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন।  

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামের আকবার আলীর নিজ বাড়ির ঘরের বারান্দায় তাকে গলা কেটে হত্যা করে রাখে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে আজ শনিবার সকালে মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

গাংনীতে পুকুর থেকে দিনমজুরের লাশ উদ্ধার 

নিহত আকবারের স্ত্রী হালিমা বলেন, রাতে স্বামীর সাথে আমি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে আমার ও স্বামীর মুখ বেঁধে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করে। তখন আমার স্বামী বলেন, তোরা তাকে না মেরে আমাকে মার। এই কথা শুনে ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্ত্রী হালিমা।

এদিকে প্রতিবেশীরা জানান, নিহত আকবার আলী খুবই পরিশ্রমী ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন।

স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে তাকে খুন হতে হয়েছে। শুক্রবার রাত ১টার দিকে আকবারের স্ত্রী একবার চিৎকার দিয়ে থেমে যায়। বেশ কিছু সময় পর আবার তার চিৎকারে আমরা এসে দেখি আকবরের লাশ বারান্দায় পড়ে আছে।  

প্রতিবেশীদের ধারণা, রাতে হালিমার ঘরে অন্য লোক ঢোকে। বিষয়টি আকবর আলী টের পেয়ে যায়। আকবার আলী স্পষ্টবাদী লোক। সে সব বলে দেবে ভয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে খুন করা হয়েছে। পাশের ঘরে নিহতের ছেলে মিন্টু ঘুমিয়ে থাকলেও সে কিছুই টের পাইনি। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে হালিমা অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। খুনের ঘটনা আড়াল করতে আকবরের স্ত্রী হালিমা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন।

মানিকগঞ্জে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যা

এ ব্যাপারে খেদাপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আইনুদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৪টার দিকে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। নিহত আকবারের স্ত্রী হালিমা খাতুন আমাকে বলেছে, রাত ৯টার সময় সে পাশের এক বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে যায়। তখন আকবার আলী তাকে সেই বাড়ি থেকে ডেকে আনে। পরে তারা একই খাটে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১টার দিকে হঠাৎ স্বামীর হাত তার গায়ে পড়ে। তখন ঘুম ভেঙে যায় হালিমার। ঘুম ভাঙার পর তিনি দেখতে পান তার স্বামীর মুখ বাধা। পরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তার স্বামী খুন হয়।
 
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, নিহত আকবার আলীর হত্যা মোটিভ উদ্ধারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী হালিমা খাতুন, ছেলে মিন্টু হোসেন ও মেয়ে সোনিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য