kalerkantho


ভাত রান্নায় দেরি ছিল খুশির ‘অপরাধ’! তারপর...

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:৪৭



ভাত রান্নায় দেরি ছিল খুশির ‘অপরাধ’! তারপর...

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ সৈয়দা আফরিন আক্তার খুশি। ছবি : কালের কণ্ঠ

সরিষাবাড়ীতে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হাত, পা ও কোমরের হাড় ভেঙে দিয়েছেন তার স্বামী।  ভাত রান্নায় দেরি করাকে 'অপরাধ' গণ্য করে এই নিষ্ঠুরতার শুরু।

 গৃহবধূ মাথায়ও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তিনি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নির্যাতিত গৃহবধূর নাম সৈয়দা আফরিন আক্তার খুশি। তিনি সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চুনিয়াপটল গ্রামের মো. আমজাদ হোসেনের মেয়ে ও সরিষাবাড়ী পৌরসভার শিমলা বাজার এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. আনোয়ার হোসেন বুলুর স্ত্রী। খুশি-আনোয়ারের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে আমেনা নার্সারিতে পড়ে। ছোট মেয়ে ফাতেমার বয়স এক বছর। আমজাদ হোসেন জামালপুরের আঞ্চলিক সেটলমেন্ট দপ্তরের ভূমি জরিপ কর্মচারী।

জামালপুর জেনারেল হসপাতালে গিয়ে জানা গেছে, শিমলা বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গত মঙ্গলবার বিকেলে খুশিকে নির্মম নির্যাতন করে আনোয়ার।

গতকাল শুক্রবার সকালে দেখা যায়, হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেঝেতে দেওয়া বিছানায় ব্যথায় ছটফট করছেন খুশি। বুধবার দুপুরে তার শরীরের ভাঙা স্থানগুলো এক্স-রে করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

সৈয়দা আফরিন খুশি জানান, ১২ বছর আগে তার সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে আছে। বিয়ের পর থেকেই আনোয়ার ও তার পরিববারের সদস্যরা খুশিকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিত। টাকা এনে দিতে না পারলে মাঝেমধ্যেই খুশিকে নির্যাতন করত। তারা তিনবার খুশিকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছিল। গত মঙ্গলবার বিকেলে খুশি ভাত রান্না করছিলেন। আনোয়ার বাসায় ফিরে ভাত রান্না করতে দেরি করার অজুহাতে খুশিকে অকথ্য গালাগাল করে। পরে মোটা লাঠি দিয়ে খুশিকে বেধড়ক পেটায়। এতে খুশির দুই হাত, দুই পা, কোমরের হাড়, বাঁ হাতের একটি আঙুল ভেঙে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম হয়। প্রতিবেশীরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাতে সরিষাবাড়ী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। রাতেই তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খুশির বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, আনোয়ার খুশির হাত-পা-কোমর ভেঙে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, হাসপাতাল থেকে তার মেয়ে আমেনাকেও মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে গেছে। আমজাদ অভিযুক্ত আনোয়ার ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি এ ব্যাপারে মামলা করতে শুক্রবার সকালে সরিষাবাড়ী থানায় ডিউটি অফিসার আমিনুল ইসলামের কাছে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

সরিষাবাড়ী থানার ওসি রেজাউল ইসলাম খান জানান, এ ব্যাপারে  কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


মন্তব্য