kalerkantho


আলফাডাঙ্গায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুই বাল্যবিয়ে বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর    

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৪৬



আলফাডাঙ্গায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুই বাল্যবিয়ে বন্ধ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় দুটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ শুক্রবার দুপুরে এ দুটি বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নে।

পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের দেউলী গ্রামে চরনারানদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন দেউলী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য গোলজার মোল্লা। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গার সহকারী  কশিনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই বাড়িতে হাজির হন। তখন পাত্রীর বাবা গোলজার মোল্লা ও পাত্রের বাবা টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সৈয়দ রজব আলীর কাছ থেকে বাল্যবিয়ের উদ্যোগ নেবেন না বলে মুচলেকা নিয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ফরিদপুর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম, পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম, চরনারানদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান জাফর সরদারসহ কয়েকজন অতিথি ওই বাড়িতে ভোজে অংশ নিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য সাংবাদিকদের জানান, ওই বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আসছেন-এমন খবর পেয়ে তাড়াহুড়ো করে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বর-কনেসহ অতিথিরা চলে যান।

অপরদিকে, একই উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাঠিগ্রামে ১৪ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের উদ্যোগ নিয়েছিল তার পরিবার। আজ শুক্রবার দুপুরে এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। খবর শুনে দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলা সহকারী  কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম ওই বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। তিনি বাল্যবিয়ে আয়োজনের দায়ে কনের বাবা কোবাদ শেখকে এক হাজার টাকা জরিমানা করে তার  মুচলেকা নেন।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ১৯২৯ সালের বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


মন্তব্য