kalerkantho


নিখোঁজ ২, আহত ৩

মেঘনায় লঞ্চের ধাক্কায় ট্র্রলারডুবি, একজনের লাশ উদ্ধার

ভোলা প্রতিনিধি    

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:১০



মেঘনায় লঞ্চের ধাক্কায় ট্র্রলারডুবি, একজনের লাশ উদ্ধার

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের উত্তর বাটামারা গ্রামের আলিমুদ্দিন মাছঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এম ভি ফারহান ৫ লঞ্চের ধাক্কায় একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। এতে মো. গিয়াস উদ্দিন (১৭) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন।

নিহত গিয়াস উদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাটামারা গ্রামের আ. শুক্কুরের ছেলে। দুর্ঘটনায় মো. মিরাজ (১৫) ও মো. কামাল (৩৫) নামের দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া এতে আহত হয়েছেন মো. জসিম (২৫), মো. মিজান (৩৫) ও মো. বিল্লাল (৩০) নামের তিন জেলে। আজ  শুক্রবার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলারে থাকা আহত মো. জসিম, মো. মিজান ও মো. বিল্লাল জানান, গতরাত সাড়ে ৩টার দিকে তারা মেঘনায় জাল ফেলে ইলিশ শিকার করছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি ফারহান ৫ লঞ্চটি দ্রুতগতিতে চালিয়ে এসে তাদের মাছ ধরার ট্রলারকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় তারা ট্রলার থেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী মাছ ধরার ট্রলার এসে তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের ট্রলারে তোলেন। পরে ওই ট্রলারসহ তারা দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারের কাছে এসে দেখেন দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রলারের মধ্যে জেলে মো. গিয়াস উদ্দিনের লাশ পড়ে আছে।

ট্রলারের মধ্যে থাকা ছয় জেলের মধ্যে চারজনের সন্ধান পেলেও বাকি দুইজন জেলে মো. মিরাজ ও মো. কামাল নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহত গিয়াস উদ্দিনের বাবা আ. শুক্কুর জানান, ঘটনার পরপরই অজ্ঞাতনামা মোবাইল ফোনে তাকে ঘটনা সম্পর্কে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়াস উদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার ও আহত তিনজনকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ব্যপারে এমভি ফারহান ৫ লঞ্চের সুপারভাইজারের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি 'আমি কোনো কিছুই জানি না' বলে মোবাইল ফোনের লাইনটি কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। বিকেলে এ খবর লেখার সময় পর্যন্ত তজুমদ্দিন কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার মো. জসিম জানান, তাদের ডুবুরিদল নিখোঁজ মো. মিরাজ ও মো. কামালকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, গিয়াস উদ্দিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত গিয়াস উদ্দিনের ভাই মো.  জসিম বাদী হয়ে এমভি ফারহান ৫ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।   


মন্তব্য