kalerkantho


মাদারীপুরে নৌপরিবহনমন্ত্রী

'মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়েই ফিরিয়ে নিতে হবে'

মাদারীপুর প্রতিনিধি    

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:৫৯



'মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়েই ফিরিয়ে নিতে হবে'

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, সমস্যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে না। সমস্যা সমাধান হবে।

জাতিসংঘের এই রেজুলেশনের মাধ্যমে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দুরদর্শিতা ও কূটনৈতিক তৎপরতা সফল হয়েছে। আজকে জাতিসংঘের ১৩৫টি দেশ যেখানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভোট দিয়েছেন এবং প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। এতগুলো দেশ যেখানে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া, তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধের জন্যে যে প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। এ প্রস্তাবে নিশ্চয় তাদের উপর একটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে মাদারীপুর আচমত আলী খান পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন।  

তিনি আরো বলেন, এমন এক সময় আসবে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো কোন না কোনভাবে মিয়ানমারকে বয়কট করবে। অর্থনৈতিকভাবে বর্জন করবে। ব্রিটেন যে অক্সফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে সুচি পড়াশোনা করেছে, সেখানে তাকে যে সম্মাননা দিয়েছিল তা ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তার যে ছবি টাঙ্গানো ছিল তা নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে কি এটা প্রমাণিত হয় না যে সারা বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কতটা সফল হয়েছেন? প্রধানমন্ত্রী যে দেশে যায় সেখানেই তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলছেন।

আমি বিশ্বাস করি আজ হোক কাল হোক বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়েই ফিরিয়ে নিতে হবে। এটাই বাস্তব, এটাই মানতে হবে।  

এ ছাড়াও আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে নৌমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী এবং নির্বাচন পরিচালনা করবেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে কে আসবে আর কে আসবে না এটা যার যার দলের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। নির্বাচন সময়কালীন নিশ্চয় কোনো সরকার থাকতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচনকালীন সময় একটি সরকার থাকে, আমাদের দেশেও সে রকম একটি সরকার থাকবে। আর তা হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।  

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য একটি বোর্ড রয়েছে। সেখান থেকেই প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চাইবো এবং আমার বিশ্বাস মাদারীপুর-২ আসনে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে। আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করব।   ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এমপিদের তাদের নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং এমপিরা সেভাবেই এলাকার উন্নয়ন করছেন। আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় যে সব উন্নয়ন করেছি তা এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তারপরেও এখন অনেক উন্নয়ন করার মত কাজ বাকি আছে। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার সরকার বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখবেন। সে হিসেবে মাদারীপুরেও উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাবে।  

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ ফারুক আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার পাঠক, পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম বাবু চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধকালীন খলিল বাহিনী প্রধান মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন সেলিম, আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আবুল বাশার, আচমত আলী খান পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের সভাপতি এ্যাড. ওবায়দুর রহমান খান কালু, অধ্যক্ষ মো. হুমায়ন কবির প্রমুখ।  


মন্তব্য