kalerkantho


সুনামগঞ্জে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান

যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীদের সরকার বিশেষ পরিচয়পত্র দিবে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:৫০



যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীদের সরকার বিশেষ পরিচয়পত্র দিবে

ছবি: কালের কণ্ঠ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান খান বলেছেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঐতিহাসিক সকল মামলার সাক্ষীদেরকে সরকার বিশেষ পরিচয়পত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা এই মামলায় সাক্ষী হয়েছেন তারা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।

তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের ভয়-ভীতিতে সন্ত্রস্ত না হয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছে সাক্ষ্যদানের আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, সাক্ষীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ ঐতিহাসিক এসব মামলার সাক্ষীদের সব ধরনের নিরাপত্তা দেবে সরকার।

মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পেরুয়া ভূমি অফিস মাঠে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৭১ সনের ৬ ডিসেম্বর শ্যামারচর পেরুয়ায় সংঘটিত গণহত্যা তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৩য় ধাপের তদন্তকাজে তিনি আজ মঙ্গলবার দিরাইয়ে আসেন। এ উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। একাত্তরের রাজাকার আব্দুল খালেক পেরুয়া গণহত্যাকাণ্ড সংগঠিত করে। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতিকালে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তার বাড়িতে মেয়েসহ মারা যান জেলার বিশিষ্ট আইনজীবী সোনাহর আলী।

মঙ্গলবার পেরুয়া গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলায় তদন্তকাজে এলাকার পরিদর্শনে আসেন তদন্ত দলের প্রধান আব্দুল হান্নান খান।

উপজেলা যুবলীগ নেতা জ্যোতির্ময় দাসের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈনুদ্দিন ইকবাল, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্চয় সরকার, মুক্তিযোদ্ধা সিলেট জেলা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, সুনামগঞ্জ জেলা কমান্ডার হাজী নুরুল মোমেন, ডেপুটি কমান্ডার আবু সুফিয়ান, জেলা যুব কমান্ডের সভাপতি উবায়দুর রহমান কুবাদ, দিরাই উপজেলা কমান্ডার আতাউর রহমান, শাল্লা উপজেলা কমান্ডার গৌরাঙ্গ দাস প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষক নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অমর চাদ দাস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল হান্নান খান বলেন, যোদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে না। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের সাক্ষীরা অনেকে বেঁচে নেই। যারা বেঁচে আছেন তারা যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান সন্তুতিদের ভয়ে সাক্ষী দিতে ভয় পান। আজ তাদের অভয় দিতেই আমি এলাকায় এসেছি।

এ সময় তিনি উপস্থিত জনতার কাছে এখানে সংগঠিত বর্বোরচিত গণহত্যার বিচার চান কিনা জানতে চাইলে উপস্থিত সবাই সমস্বরে বিচারের দাবি জানান।

মতবিনিময় শেষে তিনি গণহত্যাস্থল পরিদর্শন ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।


মন্তব্য