kalerkantho


হাতিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে সাত গ্রাম প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী    

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:৫৮



 হাতিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে সাত গ্রাম প্লাবিত

ভারি বর্ষণ ও সামুদ্রিক জোয়ারে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত সাত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ছয় সহস্রাধিক মানুষ।

আজ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে এসব গ্রাম প্লাবিত হয়। এ ছাড়া কোম্পানীগঞ্জে জোয়ারের সময় এক নারীর মৃত্যূ হয়েছে এবং ঝড়ে সদরে অশ্বদিয়া ইউনিয়নে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। হাতিয়ার সঙ্গে সকল নৌ চলাচল গত দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সেখানে জেনারেটর বিকল থাকায় কার্যত হাতিয়া বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

চরইশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কামরুল ইসলাম মহাব্বত জানান, গত দুই দিনের ভারি বর্ষণ ও মেঘনা নদীতে অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে আজ শনিবার বিকেলে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের তালুকদার গ্রাম, বাদশা মিয়া হাজী গ্রাম, আব্দুল লতিফ হাজী গ্রাম, সাত নম্বর গ্রাম, ফরাজী গ্রামসহ সাত গ্রামে পানি প্রবেশ করে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে গ্রামগুলোর প্রায় ছয় হাজার মানুষ। তারা বিভিন্ন উচুঁ স্থান সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। এ সময় বেশকিছু কাঁচা ঘর, গাছপালা ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার চরইশ্বর থেকে জাহাজমারা ইউনিয়নের প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ক্ষতি হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রিয়াজুল করিম জানান ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে পুরো হাতিয়ার অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় জোয়ারের কারণে বেশি ক্ষতি হয়েছে। পানি প্রবেশ করায় অনেকে বিভিন্ন উচুঁ স্থানে তাদের গবাদি পশুসহ আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলোর কাঁচা ঘর, গৃহপালিত পশু, গবাদি পশু, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত দুই দিন ধরে হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেনারেটার বিকল থাকায় আজ শনিবার বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।

এদিকে, আজ শনিবার বিকেলে জোয়ারের সময় জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রোকেয়া বেগম ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় জোয়ারের পানিতে তার মৃত্যূ হয়েছে। এ ছাড়া প্রবল জোয়ারে মুছাপুর ও চর এলাহী ইউনিয়নে অনেক নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ফজলে রাব্বি মৃত্যূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আজ শনিবার দুপুরে জেলার সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ অশ্বদিয়া ও নাজিরপুর গ্রামে ঝড়ে তালুক বরকত উল্লাহ মাদ্রাসা ও মসজিদসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে।
অশ্বদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বাবলু ঘূর্ণিঝড়ের কথা নিশ্চিত করে জানান, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে তিনজন আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয় হয়েছে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত শুক্রবার ভোর রাত থেকে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত জেলা সদর, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল, সেনবাগ. কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট  সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। টানা ভারি বর্ষণের ফলে মানুষের জীবন যাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। জেলা শহরে অনেক সংযোগ সড়ক এখন পানিতে ডুবে থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।  


মন্তব্য