kalerkantho


মাদারীপুরে বৃষ্টিতে শহরে জলাবদ্ধতা

মাদারীপুর প্রতিনিধি    

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:১৪



মাদারীপুরে বৃষ্টিতে শহরে জলাবদ্ধতা

মাদারীপুরে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকের ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে।

এ ছাড়া শহরে জলাবদ্ধতার জন্য জাতীয় পত্রিকা বিলি ও বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শহরের পুলিশ লাইনস, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসসংলগ্ন এলাকা, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, পুরানবাজার এলাকা, পানিছত্র, কুলপদ্বি, থানতলী, গোলাবাড়ী, শকুনী এলাকা, বাজারঘাটসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা তলিয়ে গেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে শহরবাসী।

এ ছাড়াও শহরের অনেকে ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বৃষ্টির পানি বের হতে না পারায় শহরের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ অবস্থায় বৃষ্টিতে ঘরের বাইরে বের হতে না পেরে মানবেতর দিন যাপন করছেন অনেক মানুষ। অন্যদিকে, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে।

শকুনী এলাকার রুনা, শিউলি, কামালসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিবছর বৃষ্টি এলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বেশ কয়েকটি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়।

এর মূল কারণ হচ্ছে শহরে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সরকারি খাল ভরাট করা। এই জলাবদ্ধতা থেকে শহরবাসী স্থায়ী সমাধান চায়।

শহরের চৌধুরী ক্লিনিকের পাশে শকুনী এলাকার বাসিন্দা নারী নেত্রী আনোয়ারা রাজ্জাক আনু চৌধুরী বলেন, "ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। ময়লা-আবর্জনাযুক্ত এই পানির কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে আছি। শুধু আমি নই, এই এলাকার অনেক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এখানে একটি বড় পুকুর ছিল। সেটি ভরাট করার ফলে এই ভোগান্তি আরও বেড়েছে। শহরের খালগুলো পুনঃউদ্ধার জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চায় শহরবাসী।

অপরদিকে, শহরের জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করায় শনিবার পত্রিকা বিক্রেতারা কোনও পত্রিকা বিলি বা বিক্রি করেনি। এমন কি আজ রবিবারও তারা কোনও পত্রিকা বিলি বা বিক্রি করবে না। ফলে সাধারণ পাঠক প্রতিদিনের মতো গত দুদিন ধরে পত্রিকা হাতে পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারের মাদারীপুরের পত্রিকার এজেন্ট ওমর আলী শিকদার বলেন, "শহরে জলাবদ্ধতার জন্য পত্রিকা পাঠকের হাতে তুলে দিতে পারছি না। পত্রিকার হকাররা জলাবদ্ধতার জন্য সমস্যায় পড়ায় দুই দিন পত্রিকা বিলি ও বিক্রি থেকে বিরত থাকবে।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, "শহরের মধ্যে জলাবদ্ধতার স্থানীয় সমাধানের জন্য দুটি ভাগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। একটি অংশ নদীতে গিয়ে অপর অংশ শহরের শকুনী এলাকার খাল দিয়ে পানি বের করে দেয়া হবে। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে। " 


মন্তব্য