kalerkantho


বাকৃবিতে ভর্তি পরীক্ষায় বসার আগেই বাদ অর্ধেক শিক্ষার্থী

বাকৃবি প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০৫:৫৮



বাকৃবিতে ভর্তি পরীক্ষায় বসার আগেই বাদ অর্ধেক শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার জন্য যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ফরম তোলার যোগ্যতা পূরণ করে এবার প্রায় ২৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন।

কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১২ হাজার ২ শত ১২ জন আবেদনকারীকে মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ভর্তি পরীক্ষায় বসার আগেই বাদ পড়েছেন অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী।

বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা যুক্তিসঙ্গতভাবে আবেদনের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিও করতে পারছেন না। কারণ বিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২০০ আসনের জন্য প্রথম ১০ গুণ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারবেন। অতিরিক্ত আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদন ফি’ও ফেরত পাবেন না।

জানা গেছে, এ বছর বাকৃবিতে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করার যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল বিজ্ঞান বিভাগ খেকে এস.এসসিও এইচএসসিসি সমষ্টিগতভাবে জিপিএ ৯.০০ (চতুর্থ বিষয় ছাড়া)। আবেদনের আগে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে থেকে আবেদন ফি বাবদ নেওয়া হয়েছিল ৭০০ টাকা। যারা ভর্তি পরীক্ষায় বসতে পারছেন না তাদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ লক্ষের অধিক টাকা আদায় হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে এসএসসি ও এইচএসসিতে বা সমমান চতুর্থ বিষয় বাদে সমষ্টিগতভাবে কমপক্ষে জিপিএ ৯.৬৭ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

গতবারও প্রয়োজন ছিল একই জিপিএ।

ভর্তি পরীক্ষায় বসতে না দেয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন ফি এর টাকা ফিরিয়ে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার পরপরই এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  

ভেটেরিনারি অনুষদের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাফসান জানি নয়ন বলেন, ভর্তিযুদ্ধের সময় একজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হয়। এজন্য অনেক টাকা খরচ হয়। এ বছর বাদ পড়া প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭০০ টাকা করে আবেদন ফি নেওয়া হলে মোট টাকার পরিমাণ দাড়ায় ৯০ লাখের অধিক টাকা। যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠই পার হতে পারলেন না তাদের কাছ থেকে এই টাকা নেয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অতীতে কোনদিন অনিয়ম, দুর্নীতি হয়নি। পুরো দেশ জানে বাকৃবির ভর্তি পরীক্ষা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। আমরা সব সময় এ ধারা বজায় রাখতে চাই। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও সবাইকে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার আসনও নেই। আমরা নিজেরাও চাইনা অন্য কোথাও গিয়ে পরীক্ষা হোক। তখন কোন অনিয়ম হলে আমাদের কিছু করার থাকবে না বরং দায়টি আমাদেরকেই নিতে হবে। এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমরা ১২হাজার শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দিচ্ছি।


মন্তব্য