kalerkantho


বাকৃবি গবেষকের সফলতা

ইলিশ থেকে তৈরি হচ্ছে স্যুপ ও নুডলস

কাঁটাছাড়া ইলিশের স্বাদ বছর জুড়ে

বাকৃবি প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০১:১৯



ইলিশ থেকে তৈরি হচ্ছে স্যুপ ও নুডলস

ইলিশ থেকে তৈরি পণ্য দেখাচ্ছেন অধ্যাপক ড. নওশাদ আলম ও তার গবেষক দলের সদস্যরা।

সুস্বাদু ও মোহনীয় স্বাদের জন্যে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বিশ্বে জনপ্রিয় একটি মাছ হচ্ছে ইলিশ। কিন্তু বছরজুড়ে প্রাপ্ততার স্বল্পতা, সংরক্ষণ ও অত্যাধিক কাঁটার কারণে এ মাছ পছন্দকারীদের বেশ বেগ পেতে হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে ইলিশ মাছ থেকে স্যুপ ও নুডলস উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম ও তার সহযোগিরা।

গবেষক জানান, ইলিশের পুষ্টিগুণ পৃথিবীর যেকোন উৎকৃষ্ট মাছের সমতুল্য অথবা তার চেয়ে অনেক বেশি। অনেকের মতে ইলিশ পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্বাদু মাছ। ইলিশের চর্বিতে বিদ্যমান ওমেগা-৩ অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড মানুষের রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ইলিশ মাছ মাছ মানুষের দেহের হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় অথবা হৃদরোগ মুক্ত করে এবং মানুষকে স্স্থু, সবল ও সতেজ রাখে।

অন্যদিকে অত্যাধিক বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্য সময় সাধারণ মানুষ এটা তেমন খেতে পায় না। এইসব দিক চিন্তা করে বর্তমান সরকার ইলিশ থেকে সারা বছর ঘরে রেখে খাওয়ার মতো, সস্তা, অবিকল কাঁটা-বিহীন ইলিশ পণ্য উৎপাদনের ওপর মৎস্য বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এ লক্ষ্যে গঠিত বিভিন্ন জাতয়ি কমিটিতে বাকৃবির অধ্যাপক নওশাদ আলমকে পণ্য উদ্ভাবন বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রায় দেড় বছরের অধিক সময় ধরে তিনি ও তার গবেষক দল নিরলস প্রচেষ্টায় ইলিশ মাছের স্বাদ ও গন্ধকে অপরিবর্তিত রেখে ইলিশ-স্যুপ ও ইলিশ নুডুলস্ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে ইলিশের আমিষ, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, অনান্য পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিনের কোন ঘাটতি না ঘটিয়ে মাছের কিমা, মাথা, নাড়ি-ভুড়ি ও ডিম থেকে আলাদা আলাদা ভাবে ফ্রিজে সংরক্ষযোগ্য ছোট আকৃতির ব্লক আকৃতির কিউব তৈরি করেন তিনি। যার একটি ব্লক দিয়ে ১ জনের গ্রহণযোগ্য ৭০ গ্রাম ভরের নুডলস্ ও অথবা ১৩০মিলি স্যুপ তৈরি করা সম্ভব। শুধুমাত্র গরম পানি মিশিয়েই এটি পরিবেশন করা যাবে। প্রতি প্রাকেট নুড্যুলস অথবা স্যুপের  খুচরা বাজার মূল্য পড়বে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা।

ওয়াল্ড ফিশ সেন্টারের ইকোফিশ প্রকল্প ইলিশ পণ্য উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণ গবেষণায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। ইকোফিশ প্রকল্পের সহায়তায় ভারগো ফিশ এ্যান্ড এগ্রো প্রসেস লিমিটেড এর মাধ্যমে শ্রীঘ্রই দেশব্যাপী বাজারজাত করা হবে বলে জানিয়েছেন ড. নওশাদ আলম।

এ বিষয়ে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শুভাষ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, এটি একটি সময় উপযোগী গবেষণা।  দেশের  ভোগলিক নির্দেশক এ পণ্যটি থেকে উৎপাদিত  ইলিশ স্যুপ ও ইলিশ নুডুলস বিদেশে রপ্তানী করার গেলে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।


মন্তব্য