kalerkantho


তেঁতুলিয়ার ওসির অপসারণ দাবিতে নিহত সোনিয়ার পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:৫৮



তেঁতুলিয়ার ওসির অপসারণ দাবিতে নিহত সোনিয়ার পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রহিমা আক্তার সোনিয়া ধর্ষণ ও হত্যা প্ররোচনা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি সরেস চন্দ্রের আশু অপসারণ দাবি করে সংবাদ করেছে নিহত সোনিয়ার পরিবার। বৃহস্পতিবার উপজেলার কালারাম জোত গ্রামে সোনিয়াদের বাড়ির সামনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে সোনিয়ার মায়ের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সোনিয়ার দাদা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান।  

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সোনিয়ার বাবা জাহেরুল হক, মা সেলিনা আক্তার, মামা ফারুক হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার কাজী মাহাবুবুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়াসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
 
লিখিত বক্তব্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরেস চন্দ্রের অসহযোগিতার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, তেঁতুলিয়া থানার ওসি ঘটনার শুরু থেকেই ধর্ষকদের পক্ষাবলম্বন করেন। তিনি ঘটনার বিস্তারিত জেনেও এটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে স্ব-প্রণোদিত হয়ে ইউডি মামলা দায়ের করেন। আমরা ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সুনিদৃষ্ট অভিযোগ দায়ের করে মামলা দায়ের করতে চাইলেও ঘটনার ৫ দিন পর্যন্ত তিনি মামলা নেননি। পরে মিডিয়ায় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে মামলা নেন। এখন আদালতের নির্দেশে এই ওসির অধীনেই থানায় আসামিদের রিমান্ড চলছে। অথচ ধর্ষণের পর ভিডিও ফুটেজ, মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে তিনি কোনো ভুমিকাই নিচ্ছেন না। আমাদের ধারণা, তিনি এই থানায় থাকলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার পাবো না।

তাই আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের উপযুক্ত বিচারের স্বার্থে অবিলম্বে ওসি সরেস চন্দ্রের অপসারণ চাই। আশা করি, উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ধর্ষণের ঘটনাটি সোনিয়া আমাদের কাছে বলার পরই আমরা মামলার আসামি রাজনের ভাই আবদুল্লাহ ও আতিকের ভাই আশরাফুলকে জানাই। তারা তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আমাদের ডেকে নিয়ে উল্টো আমাদের হুমকি দিয়ে বলে, এ নিয়ে তোমরা বেশি বাড়াবাড়ি করবা না। এক পর্যায়ে সেখানে দুই ধর্ষক উপস্থিত হয়ে আমাদেরকে বলে, আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু আপনাদের মেয়ের ভালোর জন্য এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই ভালো। এরপর আমাদের অগোচরে সোনিয়া আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার কাজী মাহাবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ওসি সরেস চন্দ্র এলাকার রীতিমতো ক্ষতি করে চলেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব জমি অন্যকে পাইয়ে দিতে জনৈক পরিমলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের হেনস্থা পর্যন্ত করেছেন। তার কারণে এলাকার আইন-শৃঙ্খলার যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। বিধ্বংসী ড্রেজার মেশিনে পাথর তোলা বন্ধ না করে তিনি প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকা কামাই করছেন। তাকে অপসারণের দাবীতে এর আগে এলাকায় মানববন্ধন পর্যন্ত করেছে স্থানীয় জনতা। কিন্তু কোন এক রহস্যজনক কারণে তাকে সরানো যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইমার্জেন্সি অ্যাটেনডেন্ট রাজন ও বিকাশের স্থানীয় এজেন্ট আতিকের দ্বারা ধর্ষিত হয়ে ভিডিও ব্লাকমেইলের হুমকি দিলে গত ১০ অক্টোবর নিজ বাড়ীতে আত্মহত্যা করে স্কুলছাত্রী সোনিয়া (১৪)। ঘটনার ৫ দিন পর তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর 'ক' ধারায় মামলা নেয় থানা পুলিশ। এর প্রতিবাদে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে জনগন।  


মন্তব্য