kalerkantho


কেরানীগঞ্জে জমি নিয়ে প্রতারণার দায়ে স্বামীর জেল, স্ত্রীর জরিমানা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:০৬



কেরানীগঞ্জে জমি নিয়ে প্রতারণার দায়ে স্বামীর জেল, স্ত্রীর জরিমানা

ছবি: কালের কণ্ঠ

উপজেলা কেরানীগঞ্জের তারানগর ইউনিয়নের ওয়াসপুর মৌজার নিজেদের ৮ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতারণা করতে গিয়ে এক দম্পতি নিজেরাই আটক হয়েছেন পুলিশের কাছে। আটককৃত দম্পতি হলেন- চরওয়াসপুর এলাকার মৃত হিরু মিয়ার ছেলে মো. ইসলাম মিয়া (৪৪) ও তার স্ত্রী পারুল বেগম (৪০)।

আজ বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা সাব-রেজিস্ট্রার মো. সফিউল বারি তাদের আটক করে কোনাখোলা পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেরানীগঞ্জ মডেল থানা সার্কেলের আদালতে পাঠালে পারুল বেগমকে আর্থিক দণ্ড ও তার স্বামী ইসলাম মিয়াকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, চরওয়াসপুর এলাকার বানু বিবির ওয়ারিস হয়ে ওয়াসপুর মৌজায় ৮ শতাংশ জমির মালিক হন ছেলে ইসলাম মিয়া। এরপর তিনি ওই জায়গা ইসলামের স্ত্রী পারুল বেগমকে হেবা দলিলের মাধ্যমে দান করেন। নগদ টাকার প্রয়োজন হলে পারুল বেগম উক্ত সম্পতি ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে জনৈক হিরন হাওলাদারের নিকট ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর আম মোক্তা পাওয়ার দলিলের মাধ্যমে লিখে দেন। যেখানে পারুলের স্বামী ইসলাম মিয়া শনাক্তকারী হিসাবে সই করেন। তখন হিরন মিয়া পাওয়ার দলিলের মাধ্যমে মালিক হয়ে ওয়াসপুর এলাকার মজিবর, আতা ও হাসুসহ চার জনের কাছে বায়না রেজিস্ট্রি করে বিক্রি করে দেন।

বর্তমানে উক্ত জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় পারুল বেগম ও তার স্বামী ইসলাম মিয়া নকল হিরন হাওলাদার বানিয়ে চলতি সনের ২৭ সেপ্টেম্বর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এসে পূর্বের পাওয়ার বাতিল করে। পারুল বেগম সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি পাওয়ার দলিল করে স্বামী ইসলাম মিয়াকে জমিটি লিখে দেন। এরপর জায়গাটি তারা ইসলাম মিয়ার মামাত ভাই মান্নানের কাছে বিক্রি করার কথা বলে।

মান্নান সে জমির কাগজপত্র খোজ খবর নিয়ে জানতে পারে তারা শাহরিয়ার নামের এক ব্যক্তিকে নকল হিরন হাওলাদার সাজিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পাওয়ার বাতিল করেছে।

মান্নান বিষয়টি তার পরিচিত নুরুল ইসলাম নামের একজন দলিল লেখককে জানান। নুরুল ইসলাম বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মডেল থানা সাব-রেজিস্ট্রার মো. সাফিউল বারিকে বিষযটি অবগত করান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সাব-রেজিস্ট্রার সাফিউল বারি দলিল ধাতৃ পারুল বেগম ও তার স্বামী ইসলাম মিয়াকে অফিসে ডেকে পাঠান। পারুল বেগম ও স্বামী ইসলাম মিয়া বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসলে সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব উপজেলা কোনাখোলা পুলিশ ফাঁড়ির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় জিজ্ঞাসা তাদের জমি নিয়ে প্রতারণার কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা জালিয়াতির কথা অপকটে স্বীকার করে। পরে সাব-রেজিস্ট্রার সফিউল বারি বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কোনাখোলা পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় কেরানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার পারভেজুর রহমানের আদালতে নিয়ে গেলে তিনি আটককৃতদের এ আদেশ প্রদান করেন।

আটককৃত ইসলাম ও পারুল বেগম জানায়, ও চরওয়াসপুর এলাকার মজিবর আমাদের বেশি লোভ দেখিয়ে এই প্রতারণা করিয়েছে। আমরা আমাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাই। আমাদের মাফ করে দেন।

সাব-রেজিস্ট্রার মো. সফিউল বারি বলেন, বিষয়টি আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি। আসল পরিচয়পত্র নিয়ে তারা উভয় পক্ষ আমার কাছে আসলে আমি তাদের পূর্বের পাওয়ারনামা দলিল বাতিল করে দেই। প্রায় ১৫ দিন পর বিষয়টি আমাকে নুরুল ইসলাম নামের একজন দলিল লেখক জানালে আমি পারুল বেগম ও তার স্বামী ইসলাম উদ্দিনকে ডেকে পাঠাই। এবং পাওয়ার বাতিল করতে আসা হিরন হাওলাদারের আসল পরিচয়পত্র উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে বের করে আনলে তার সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

পরে পারুল বেগম ও তার স্বামী ইসলাম মিয়া আমার কাছে আসলে আমি পুলিশের সহযোগিতায় তাদের জিজ্ঞাসা করলে প্রতারণার কথা স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, এ চক্রটিকে কোন মতে ছাড়া যাবে না। এ চক্রের সঙ্গে অন্য যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যাপারে কোনা ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ এস আই রামকৃষ্ণ বলেন, পারুল বেগম ও তার স্বামী ইসলাম মিয়া প্রতারণার কথা স্বীকার করলে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সকল প্রতারককেও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজুর রহমান বলেন, আটককৃত পারুল বেগম ও তার স্বামী ইসলাম মিয়াকে পুলিশের সহযোগিতায় কেরানীগঞ্জ মডেল সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব আমার কাছে নিয়ে আসলে তারা তাদের প্রতারণার কথা স্বীকার করেন। এতে সরকারি কাজে বাধা প্রধান ও নিজের জমি নিয়ে প্রতারণা করার অপরাধে পারুল বেগমকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা অনাদায়ে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড ও ইসলাম মিয়াকে তিনদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করি।


মন্তব্য