kalerkantho


সিআইডি অভিযানে আতঙ্কিত এনজিও কর্মকর্তার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)    

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:১০



সিআইডি অভিযানে আতঙ্কিত এনজিও কর্মকর্তার মৃত্যু

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কর্মকর্তাদের অভিযানের সময় আতঙ্কিত হয়ে সাভারের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে- এমন অভিযোগ এনে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় অবিস্থত 'মাদার আপলাইন' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বুধবার বিকেলে অভিযান চালায় সিআইডি পুলিশ।

পরে সন্ধ্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই কর্মকর্তা। মৃত ওই কর্মকর্তার নাম জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া (৫৫)। তিনি বেসরকারি ওই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযানের সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণে আতঙ্কিত হয়ে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছেন বলে তার সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

সহকর্মীদের অভিযোগ- হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়াকে হাসপাতালে নিতে বাধা দিয়েছে অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যরা।

প্রায় পাঁচ মাস আগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ছয়তলা ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় মাদার আপলাইন নামের প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে অন্তত ৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। পল্লী নারীদের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

নিহত জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদা পারভীন বলেন, বুধবার বেলা ২টার দিকে সিআইডির ১৫-১৬ জনের একটি দল তাদের অফিসে আসে।

তারা এসেই অফিসটি তল্লাশি করতে চায়। এ সময় তাদের কাছে তল্লাশির কারণ জানতে চাওয়া হলে তারা এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে দাবি করেন। এ সময় তাদের কাছে সেই ওয়ারেন্ট দেখতে চাইলে তারা সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যার যার কক্ষে আটকে ফেলেন।

একপর্যায়ে তারা তৃতীয় তলায় ব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়ার কক্ষে যান। সেখানে তিনিও ওয়ারেন্টের কপি দেখতে চাইলে সিআইডি পুলিশ এবং তার মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাইলে সিআইডি কর্মকর্তারা রাজি হননি। তারা জানান, ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম পালানোর বাহানা ধরেছেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিআইডি পুলিশ তাকে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা সন্ধ্যায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাভার মডেল থানার এসআই আবিদ হাসান জানান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিনিয়র এএসপি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, সিনিয়র এএসপি সুমন কুমার দাস, পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম এ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে সিআইডির একটি দল ওই সংস্থাটিতে আসামি ধরার জন্য সাভার মডেল থানার সহযোগিতা চান। সাভার মডেল থানার পক্ষে তিনি (এসআই আবিদ হাসান) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

মাদার আপলাইনের কর্মকর্তা ইনতেজার আহমেদ বলেন, "প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মো. ইসহাকসহ চারজনকে আটক করে সিআইডি নিয়ে গেছে। "

বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাওগাত জানান, ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্তান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাভার মডেল থানার একাধিক পুলিশ ও মাদার আপলাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, পিকাবো নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাদার আপলাইন প্রায় ২৮ লাখ টাকার মোবাইল ফেন ক্রয় করে। ওই ক্রয়ের পরিপ্রেক্ষিতে মাদার আপলাইনের পক্ষ থেকে পিকাবোকে একটি চেক প্রদান করা হয়। ব্যাংকের ওই একাউন্টে ওই পরিমাণ টাকা মজুদ না থাকায় চেকটি 'ডিজঅনারড' হয়। টাকা না পেয়ে পিকাবোর পক্ষ থেকে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

তেজগাঁও থানা মামলাটি তদন্তের ভার দেয় সিআইডিকে। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের জন্য সিআইডি পুলিশ বুধবার মাদার আপলাইনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর আলম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে  (আইসিইউ) নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


মন্তব্য