kalerkantho


দম্পতি গ্রেপ্তার

আশুলিয়ায় আশা'র নিখোঁজ মাঠকর্মীর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)    

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:৫৯



আশুলিয়ায় আশা'র নিখোঁজ মাঠকর্মীর লাশ উদ্ধার

রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় নিখোঁজের ছয় দিন পর বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণদাতা সংস্থা আশা'র এক নারী মাঠকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঋণগ্রহণকারী এক দম্পতি পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য মাটিচাপা দিয়ে রাখে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত ওই এনজিওকর্মীর নাম সাবিনা ইয়াসমিন উর্মি (৩০)। তিনি গাইবান্ধা সদর থানার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে। তিনি আশুলিয়ার চক্রবর্তী এলাকায় স্বামী জাহিদ হাসানের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশার মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

আশুলিয়া থানার এসআই আশরাফুল আলম জানান, ঘটনায়  জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আশুলিয়ার কবিরপুর দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে বুধবার রাতে উর্মির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দম্পতি হলেন দেওয়ানপাড়া এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোসলেম হোসেন (৩৮) ও তার স্ত্রী রাজিয়া আক্তার (৩৫)। তারা দুইজনই আশার ক্ষুদ্রঋণ গ্রাহক।

গত বৃহস্পতিবার মোসলেমের বাড়িতে ঋণের টাকা উত্তোলনের জন্য যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হন উর্মি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ওইদিন রাতেই আশা কর্তৃপক্ষ আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

এসআই আশরাফুল আলম আরও জানান, উর্মির মোবাইল ফোন সর্বশেষ ব্যবহৃত হয় মোসলেমের বাড়ির আশপাশে। তদন্ত শেষে বুধবার মোসলেম ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা উর্মিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। রাতেই তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোসলেমকে সঙ্গে নিয়ে দেওয়ানপাড়া বাংলাদেশ বেতারের সীমানার পাশে ঝোপের ভেতর মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত অবস্থায় উর্মির লাশ উদ্ধার করা হয়।

আশরাফুল বলেন, কয়েক মাস আগে আশা থেকে ৯৮ হাজার টাকা ঋণ নেন মোসলেম। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন সাবিনা ইয়াছমিন উর্মি। গত বৃহস্পতিবার টাকা তোলার জন্য মোসলেমের বাড়িতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মোসলেম ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজন উর্মির গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে লাশ প্রথমে একটি ড্রামের ভেতর ভরে রাখা হয়। এরপর মাঝরাতে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নির্জন ও পরিত্যক্ত একটি জমিতে উর্মির লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার দিন উর্মি ঋণ গ্রহণকারী বিভিন্ন সদস্যের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি বাবদ প্রায় দুই লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। ওই টাকারও কোনও হদিস মিলেনি এখনও। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য