kalerkantho


বরিশাল মহাশ্মানে শ্মশান দিপালী যেন আলোতে ঝলমল

বরিশাল অফিস   

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:৫৬



বরিশাল মহাশ্মানে শ্মশান দিপালী যেন আলোতে ঝলমল

ছবি : কালের কণ্ঠ

হিন্দুধর্মালম্বীদের মধ্যে যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদে আত্মার শান্তি কামনা ও নিজের পূর্ণ্য আর্জনের জন্য প্রর্থনার মধ্য দিয়ে দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত শ্মশান দিপালী উৎসব আজ বুধবার শেষ হয়েছে। এ উৎসব প্রিয়জনের সমাধিতে মোমের আলো জ্বালানো ও প্রিয় খাদ্যসহ নানা উপাচার এবং ফুল দিয়ে সমাধি সাজিয়ে তোলা হয়।

পূর্বপুরুষের স্মৃতিতে করা হয় প্রার্থনা।  

উৎসবে যোগ দিতে বরিশাল মাহাশ্মানে এসেছেন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো মানুষ। পূর্ব পুরুষের সমাধিতে তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে জ্বালিয়ে দেন আলোর রোশনাই। তিথি অনুযায়ী এবছরে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশান দিপালী উৎসব শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৮ মিনিটে। শেষ হয়েছে আজ বুধবার রাত ১২টা মিনিটে। প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্যে এই দিপালী উৎসব শুরু হয়। প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দীপ জ্বেলে দেয়ার এই রেওয়াজ চলছে প্রায় ২০০ বছর ধরে। প্রতিবছর ভূত চর্তুদশীর পূণ্য তিথিতে আয়োজিত হয় এই পূণ্য উৎসবের।

আয়োজকরা জানান, প্রায় ২০০ বছর ধরে বরিশালের কাউনিয়ার মহাশ্মশানের চলছে এই উৎসব।

উৎসব ঘিরে শশ্মানের উত্তর পার্শে আয়োজন করা হয়েছে মেলার। পাশাপাশি শ্মশানে আগতদের সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছেন সেচ্ছাসেবকরা। সব মিলিয়ে দর্শনার্থী ও স্বর্গীয় আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করতে যারা এখানে আসছেন তাদের কোন ধরনের কষ্ট যাতে না হয় সে ব্যবস্থা নিয়েছিলো মহাশ্মাশ রক্ষা কমিটি ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে।  

শশ্মান ঘুরে দেখা যায়, বরিশাল নগরীর কাউনিয়া বিসিক রোড ও লাকুটিয়া খালের মধ্য স্থান ঘিরে প্রায় ৫ একর জায়গা নিয়ে ২০০ বছরের প্রাচীন দেশের অন্যতম বৃহৎ মহাশ্মশান। শুধু দেশেরই নয় দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্তর ও প্রাচীনতম মহাশ্মশান এটি। ঐহিত্যবাহী এ মহাশ্মানের দিপবলী উৎসবও এ উপমাহদেশের বৃহত্তম উৎসব বলে জনশ্রুতি রয়েছে।  

দিপাবলী উৎসব উপলক্ষে বরিশালে এ মহাশ্মানের অবস্থিত ৫০ হাজারেরও অধিক সমাধিমন্দির আলোতে ঝলমল করছে। প্রতিটি মন্দিরের পাদদেশে স্বজনেরা পরলোকগতদের পছন্দের খাবারসামগ্রী সাজিয়ে রেখেছেন। আত্মার শান্তি কামনায় চলছে প্রার্থনা। সাজিয়ে রাখা হয়েছে প্রিয়জনের প্রিয় খাবার-দাবারও। সেই সাথে জালিয়ে দেয়া হচ্ছে ধুপ ও ধুপকাঠি। মোমের আলো আর সাজসজ্জায় মাহাশ্মান এলাকা ছড়িয়ে পরেছে আলোর ফোয়ারা।

সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কাজল ঘোষ বলেন, কত বছর আগে এই শ্মশান দীপালি উৎসব শুরু হয়েছে তা জানা নেই। তবে ছোট বেলা থেকে বাবা, ঠাকুরদার কাছ থেকে যতটুকু জেনেছি, তাতে প্রায় ২০০ বছর আগে শ্মশান দীপালি উৎসব শুরু হয়েছে। দিনে দিনে এর ব্যাপ্তি বেড়েছে। দিপালী অনুষ্ঠান ভারতে দিপাবলী উৎসব নামে পরিচিত হলেও বরিশালে দিপালী উৎস হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে সকল ধর্মে মানুষ এ অনুষ্ঠান উভোগ করতে আসে।

বরিশাল মহাশ্মশানের রক্ষা সমিতির সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডু জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৮মিনিটের শুরু করে বুধবার রাত ১২টা ২মিনিট পর্যন্ত ভূত চতুর্দ্দশী পুণ্য তিথিতে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী দিপালী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১মিনিটে শ্রীশ্রী কালীপূজা কাউনিয়াস্থ বরিশাল মহাশ্মশানে ও নতুন বাজারস্থ অমৃতাঙ্গনে (আদি শ্মশানে) অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে দিপালী উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় মহাশ্মশানে সিসি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছাড়াও সাদা ও পোশাকধারী পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিলো।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার সহকারী কমিশনার শাহনাজ পারভীন বলেন, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে এটা বৃহৎ উৎসব। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে। মহাশ্মানসহ আশ পাশ এলাকায় সাদা ও পোশাকধারী পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিলো।


মন্তব্য