kalerkantho


আগাছা-অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং কেড়ে নিল তিন প্রাণ

তিন সদস্যের কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা    

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ২২:০৫



আগাছা-অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং কেড়ে নিল তিন প্রাণ

ফাইল ছবি

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার একটি লেভেল ক্রসিংয়ে ‘বেরিয়ার’ না থাকায় এবং গাছগাছালি ও আগাছার জন্য ট্রেন দেখা না যাওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় ট্রেনটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরের জেলখানা বাড়ি লেভেল ক্রসিং থেকে মাইক্রোবাসটিকে মুখে করে নিয়ে দুই কিলোমিটার দূরে শিকারপুরে নিয়ে ফেলে।

আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১২টায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসে থাকা একজন নিহত হয় এবং আহত দুইজনকে দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।   

নিহতরা হলেন- -কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার ঝারখন্ডল গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসেস লি: এর গানম্যান আবু তাহের (৫০),  চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরিয়া গ্রামের সেলিম মিয়ার পুত্র ও সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসেস লি: এর সুপারভাইজার হারুনুর রশিদ ও  কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ধনপুর খন্দকার বাড়ীর শামীম মিয়ার পুত্র এবং সেন্ট্রিসিকিউরিটি সার্ভিসেস লি: এর মাইক্রো ড্রাইভার  মো: সোহেল (২৮)।  

কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সফিকুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্ত:নগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন কুমিল্লার জেলখানাবাড়ি লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে। এতে মাইক্রোবাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের মুখে করে অনেক দূর নিয়ে আসে। ঘটনাস্থলে রেলওয়ের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালায়।

রেলওয়ের ফোরম্যান আবদুল মমিন জানান, সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসের মাইক্রোবাসটি কুমিল্লা থেকে বরুড়ার বাতাইছড়ি যাচ্ছিল।     

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, ওই রেলগেটটি অরক্ষিত ছিল। সেখানে গেটকিপার ছিল না।

আন্ত:নগর পাহাড়িকা ট্রেনটি রেলগেইট অতিক্রমের কিছু আগে একটি মাইক্রাবাস রেললাইনে ওঠে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় দ্রুতগামী ট্রেনটি বিকল গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে অনেক দূর টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের এক যাত্রী নিহত এবং দুইজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কুমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদেরও মৃত্যু হয়।  

এদিকে এ দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ ছিল। তবে রেলওয়ের উদ্ধারকর্মী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি রেল লাইন থেকে সরিয়ে নিলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ কারণে কুমিল্লার লাকসামে কর্ণফুলি ট্রেন, লালমাইয়ে ডেমু ট্রেন আটকা পড়ে।  

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লার জেলখানাবাড়ি লেভেল ক্রসিংয়ে গাছের সাথে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে। তাতে লেখা আছে ‘ইহা একটি অনঅনুমোদিত লেভেল ক্রসিং গেইট। সকল যানবাহন ও পথচারি যাতায়াত সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। যে কোন রূপ দূর্ঘটনার জন্য নিজেই দায়ি থাকিবেন। ’ রাস্তাটি দিয়ে লেভেল ক্রসিং পার হলেও রেললাইন ও ট্রেন দেখা যায় না। কোন কোন যানবাহনকে রেললাইনের কাছে এসে চালককে ট্রেনের লাইনে গিয়ে দেখতে হয় ট্রেন আসছে কিনা।  

স্থানীয় রহিম উদ্দিন মিয়া জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মাইক্রোবাস, ট্রাক্টর, জিপ, অটোবাইক ও রিকশা চলাচল করে। অথচ এই লেভেল ক্রসিংয়ে কোন বেরিয়ার নেই। তাছাড়া ট্রেন আসছে কিনা তা রাস্তা থেকে দেখা যায় না। গাছগাছালি ও জঙ্গলে ভর্তি। আর এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।  

এ বিষয়ে কুমিল্লা রেলওয়ের ইন্সপেক্টর ওয়াচ পদে দায়িত্বরত লিয়াকত আলী জানান, রেলপথে গাছ কাটার দায়িত্ব আমাদের বিভাগের। গাছের জন্য সিগন্যাল দেখা যায় না বা ইঞ্জিনের সাথে ধাক্কা খেতে পারে এমন গাছ কাটা হয়। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে অবৈধ লেভেল ক্রসিং। এর দায় দায়িত্ব আমাদের না। যারা পথ চলবে তাদের।  

এদিকে দুঘটনার কারণ তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রেলওয়ের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ট্রান্সপোটেশন অফিসার ফয়েজ ইফতেখার জানান, যেহেতু এটি অন অনুমোদিত গেইট সেহেতু এখানে তদন্ত কমিটি হওয়ার কথা না। তবে অন্য বিভাগ করলে করতে পারে।


মন্তব্য