kalerkantho


গঙ্গাচড়ায় ভেজাল সার তৈরির কারখানার সন্ধান

রংপুর অফিস   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:৫৩



গঙ্গাচড়ায় ভেজাল সার তৈরির কারখানার সন্ধান

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ভেজাল সার তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে ৩০০ বস্তা ভেজাল সার তৈরির উপকরণসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতের এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ বাদী হয়ে গোডাউনের মালিকসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে গঙ্গাচড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।  

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় আবু হাসান চঞ্চল এর গোডাউন থেকে জব্দ করা ৩০০ বস্তা ভেজাল সার তৈরির উপকরণের মধ্যে রয়েছে ১০ বস্তা সোডিয়াম সালফেট, ৭৫ বস্তা নুরি পাথর, ৩৫ বস্তা লাল রঙের নুরি পাথর, ৭৯ বস্তা কালো রঙের নুরি পাথর, ১২০ বস্তা ডলোচুন, বালুর বস্তা, শতাধিক জারকিন, সাদা দানাদার পাউডার, বিভিন্ন কম্পানির মোড়ক সম্বলিত প্যাকেট ও পাথর ভাঙা মেশিন। এসব উপকরণ দিয়ে ভেজাল সার বিশেষ করে দানাদার কীটনাশক, বোরন, বোরাক্স, জিপসাম এবং অন্যান্য সার তৈরি করে বাজারজাত করা হতো, যা রবি মৌসুমে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি বিশেষ করে আলু, গম ও ভুট্টা আবাদে কৃষকরা ব্যবহার করে থাকে।  

এলাকাবাসী জানান, একটি চক্র বেশ কিছুদিন থেকে এই ভেজাল সারের ব্যবসা করে আসছে।

আরাজিনিয়ামত ছাড়াও বুড়িরহাট এলাকায় আরও ভেজাল সারের কারখানা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।  

এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এসব সার দিয়ে জমির কোনো উপকার হত না। বরং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হত কৃষকরা।  

তিনি আরও জানান, মেশিনে পাথর গুড়া করে বিভিন্ন ধরনের রঙ মিশ্রিত করে দানাদার কীটনাশক তৈরি করে বাজারজাত করা হতো। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের পাউডার কিংবা ডলোচুন দিয়ে জিপসাম, বোরন বিংবা বোরাক্স জাতীয় সার তৈরি করে বাজারজাত করতো চক্রটি।

 

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জিন্নাত আলী বলেন, জব্দকৃত মালামালের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ বাদী হয়ে গোডাউনের মালিক আবু হাসান চঞ্চলসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে গঙ্গাচড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।


মন্তব্য