kalerkantho


পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে খুন, পলাতক স্বামী ও শ্বশুর

নড়াইল প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৯:৩১



পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে খুন, পলাতক স্বামী ও শ্বশুর

নড়াইল সদরের ন্যাথড়া গ্রামে স্বামীর পরকীয়া প্রেমে বাঁধা দেওয়ায় গৃহবধূ নাইস খাতুনকে (২২) কানে আঘাত করে ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করেছে তার স্বজনরা। গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় স্বামী আখের শেখ ও তার পিতা ওলিয়ার শেখ পলাতক রয়েছে। মারা যাওয়ার ১২ ঘন্টা পরেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না পৌঁছালেও আজ মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।  

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে ন্যাথড়া  গ্রামের অলিয়ার শেখের ছেলে আখেরের সঙ্গে পাশের বড়গাতি গ্রামের চাঁন শেখের মেয়ের নাইস খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নাইসের সঙ্গে তার স্বামীর দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। স্বামী পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ায় নাইসকে প্রায়ই শারীরিক ভাবে নির্যাতন করত। এক পর্যায়ে গতকাল সোমবার রাতে গৃহবধূ নাইসকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বেধড়ক মারধর করলে সে মারা যায়। এ ঘটনাটি চাপা দিতে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা গৃহবধূ নাইস গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গৃহবধূ নাইসের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, লাশের চারপাশে নাইসের আত্মীয়-স্বজনের আহাজারী, মা ডালিয়া, বোন নাজমিন হাউমাউ করে কাদছে।

কাদতে কাদতে মূর্ছে যায় আদরের ছোটবোন নাজমিন। নাইসের ২ বছরের শিশু আরমার মামাদের কোলে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। বাড়িতে এত লোক দেখে অবাক হলেও কোনকি ছু বঝে ওঠার ক্ষমতা নেই এই শিশুটির।

প্রতিবেশী মাসুদুর রহমান জানান, সোমবার রাত ১২টার দিকে চেচামেচির শব্দ শুনে এই বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মেয়েটা মারা গেছে তাকে নীচে শুইয়ে রেখে ওর শ্বাশুড়ি কান্নাকাটি করছে। তবে কোনো দড়ি কিম্বা ওড়না দেখতে পায়নি। এমনকি তার গলায় কোনো দড়ির দাগও দেখা যায়নি।

নাইসের মা ডালিয়া বেগম বলেন, সুভারঘোপ গ্রামে একটি মেয়ের সাথে আমার জামাই প্রেম করে তাকে মোবাইল কিনে দিয়েছে, ৫ হাজার টাকা দিয়েছে। ওই গ্রামে ধরা খেয়ে সেই মেয়েকে সে বিয়ে করেছে। এসব ব্যাপারে আমার মেয়ের সাথে প্রায়ই ঝড়গা চলতো, আর আমার মেয়েকে মারতো। আমি আমার মেয়েকে ছাড়িয়ে  নিতে চেয়েছি কিন্তু সে রাজী হয়নি।

নাইসের ছোটবোন নাজমিন নাহার জানান, আপু আমাকে সব কথা বলতো। আপুর সাথে ঝগড়া হলে দুলাভাই তাকে হাতে যা কিছু থাকতো তাই দিয়ে জানোয়ারের মতো মারতো। কয়েকদিন আগে আপু তাকে স্বভাব পরিবর্তনের কথা বললে তার হাতে থাকা সিগারেট দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আপুর কাছে টাকা নিয়ে সে ওই মেয়েকে দেয়। সোমবার আপুর কাছে কিছু টাকা ছিলো সেই টাকা না দেওয়ায় রাতে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আপুর কানে কালো কালো দাগ আছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

এ প্রসঙ্গে প্রতিবেশীদের অভিযোগ, তারা কেউই ওই রাতে এসে নাইসকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখিনি। তার গলায় ফাস নেবার কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি বরং কানের নীচে কাল দাগ এবং থুতনীতে কাটা দাগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার ওসি মোঃ দোলোয়ার হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনা দেরীতে জেনেছে তাই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরী হয়েছে। তবে মেয়ের চাচা আতিয়ার রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। এরপরই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 


মন্তব্য