kalerkantho


৩৬ ঘণ্টা পর

মেঘনায় নিখোঁজ ট্রলারচালকের লাশ উদ্ধার

সন্দেহের তীর সৎভাইয়ের দিকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১২:৪১



মেঘনায় নিখোঁজ ট্রলারচালকের লাশ উদ্ধার

মেঘনায় নিখোঁজের ৩৬ ঘণ্টা পর নদীতে ভেসে উঠেছে ট্রলারচালক আমির হোসেনের (৪৫) লাশ। আজ মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা চালিভাঙ্গা বাজারের বাঁশবাজার খাল থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে।

 নিহত আমির হোসেন মেঘনা উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে ট্রলারচালক আমির হোসেন ও তার ছেলে ইব্রাহিম (১৫) ট্রলার চালানোর পর রাত সাড়ে ৮টায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তার সৎভাই মো. দেলোয়ার হোসেন মোবাইলে ফোন করেন। সেই ফোন পেয়ে ছেলে ইব্রাহিমকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে সৎভাইয়ের কথামতো বৌদ্ধারবাজার যান। এরপর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজ চালিভাঙ্গা বাঁশবাজারের খালে একটি লাশ ভেসে উঠলে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। এরপর লাশটি ট্রলারচালক আমির হোসেনের বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা।

এদিকে আমির হোসেনের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সৎভাই দেলোয়ার হোসেন গাঢাকা দিয়েছেন।  

আমির হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম বলে, বাবা আর আমি ট্রলার নিয়ে বাড়ি আসার সময় আব্বার মোবাইলে একটা ফোন আসে।

তখন বাবা আমাকে বলে 'তুই বাড়ি চলে যা, আমি পরে আসব, আর তোর চাচা ফোন করেছে তাকে বৈদ্যার বাজার থেকে নিয়ে আসতে।  এ কথা কাউকে জানাতে না করেছে, তুই কাউকে এমনকি তোর মাকেও বলিস না'। বাবা যখন বাড়িতে আসে নাই তখন বিষয়টি পরিবারের সবাকে জানাই। আমার চাচাই আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।

সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, আমির হোসেন এলাকার নিরীহ ছেলে, দেড় বছর বয়সে মাকে হারানোর পর সৎ মায়ের যন্ত্রণায় তার বাবা অন্যত্র তাকে দত্তক দিয়ে দেন। বড় হয়ে বিয়ে করার পর নিজের বাপের বাড়িতে চলে আসেন আমির হোসেন। তিনি এ হত্যকাণ্ডে এলাকার নিরীহ নিরপরাধ লোক যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।

মেঘনা থানার ওসি মো. সামসুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে রাতেই ফোর্স পাঠিয়ে রক্তমাখা ট্রলারটি জব্দ করি। আজ মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসীর খবরে আমির হোসেনের লাশ চালিভাঙ্গা বাশবাজারের খাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তা কুমিল্লা মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তার সৎভাই দেলোয়ারকে ধরার জন্য ঢাকায় আমাদের টিম পাঠানো হয়েছিল তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ মাঠে কাজ করছে।  


মন্তব্য