kalerkantho


হাজার হাতের দুর্গা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী    

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:৩৭



হাজার হাতের দুর্গা!

দুর্গোৎসবে এবার নোয়াখালীর মাইজদীতে সৃষ্টি হয়েছে খানিকটা বাড়তি আকর্ষণ। বাড়তি এ আকর্ষণের মূলে রয়েছে এক হাজার হাতের দেবী দুর্গা।

ব্যতিক্রম এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শহরের মালঞ্চ সংঘ জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হাজার হাতের প্রতিমা দেখতে মাইজদী শহর ছাড়াও জেলার বাইরে থেকে ভিড় জমাচ্ছে ভক্তরা।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে নোয়াখালীতে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ৩০ সেপ্টম্বর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ দুর্গোৎসব।

নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় এবার তৈরি হয়েছে ১৬০টি পূজামণ্ডপ। এসব মণ্ডপে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজাকে ঘিরে সর্বত্র বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। মণ্ডপগুলোকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। এবার দেবী দুর্গার আগমন নৌকায়, গমন ঘোটকে।

শুভ মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গা কৈশাল থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেছেন। তাই চণ্ডিপাঠের মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীর আবাহন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে শহরের শপিং মলগুলোতে চলছে কেনাবেচার ধুম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আগমনে সরব হয়ে উঠেছে শপিং মলগুলো।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৯ উপজেলার ১৬০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর ১৫৮টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছিল। এ বছর পূজামণ্ডপ বেড়েছে দুটি। জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাতিয়া উপজেলায়। এখানে পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে ৩৩টি।

এ ছাড়া সদর উপজেলায় ১৯টি, সেনবাগ উপজেলায় ১২টি, চাটখিল উপজেলায় ৯টি, সোনাইমুড়ী ১১টি, বেগমগঞ্জ উপজেলায় ২০টি, কবিরহাট উপজেলায় উপজেলায় ১৫টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১৩টি এবং সুবর্ণচর উপজেলার ২৭টি পূজামণ্ডপে চলছে পূজা উৎসব।

অপরদিকে, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের পাশাপাশি র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব ও আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।    

নোয়াখালী জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কিশোর চন্দ্র শীল বলেন, "সব ধর্মের মানুষ পূজার উৎসব উপভোগ করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে থাকেন। এতে দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। "

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ বলেন, "ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সবাই মিলেমিশে ও সাম্প্রাদায়িক সম্প্রতি রক্ষা করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এ বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব যেন নিরাপদে নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ছাড়াও পুলিশের বিভিন্ন মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ নিয়মিত মণ্ডপগুলোতে টহলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  


মন্তব্য