kalerkantho


জঙ্গিবাদে অর্থায়ন: গ্রেপ্তার ১১ জন কারাগারে, রিমান্ড শুনানি সোমবার

আদালত প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৫৩



জঙ্গিবাদে অর্থায়ন: গ্রেপ্তার ১১ জন কারাগারে, রিমান্ড শুনানি সোমবার

প্রতীকী ছবি

জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১ জনকে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য করা আবেদন শুনানি হয়নি। প্রয়োজনীয় কেস ডকেট (সিডি) না থাকায় সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কাল সোমবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
 
আসামিরা হলেন- রাজশাহী মহানগরীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার নাহিদুদ্দোজা মিঞা ওরফে নাহিদ (৩২), টলি নাথ (৪০), হেলাল উদ্দিন (২৯), আল আমিন (২২), ফয়সাল ওরফে তুহিন (৩৭), মঈন খান (৩৩), আমজাদ হোসেন (৩৪), তাজুল ইসলাম (২৭), জাহেদুল্লাহ (২৯), আল-মামুন (২০) ও আল-আমিন (২১) ।

আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম নবী আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ও শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালতে প্রসিকিউশন শাখায় কর্মরত উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেন জানান, রিমান্ড আবেদন শুনানিতে মামলার কেস ডকেট (সিডি) না থাকায় শুনানি হয়নি।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াস আলী আসামিদের আদালতে হাজির করেন। সন্ত্রাসবিরোধ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, 'স্পেনের প্রতিষ্ঠিত আইটি কম্পানি সিনটেল ও বাংলাদেশের ওয়াইমি একই মালিকের প্রতিষ্ঠান। স্পেনে বসবাসরত ওই মালিকের নাম আতাউল হক সবুজ। তার কম্পানি সিনটেলের মাধ্যমে ওয়াইমিতে অর্থ পাঠাতো।

এর ৪৭ শতাংশ বেতন ও অবকাঠামোগত কাজে ব্যয় হতো। বাকিটা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন হতো। স্পেন ও বাংলাদেশে দুই প্রতিষ্ঠানে দুই দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একইসঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে। সবুজকে স্পেনে আটক করা হয়েছে।
বাংলাদেশে অবস্থিত 'ওয়াইমি' সবার দৃষ্টিতে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করলেও এই ব্যবসার আড়ালে বিদেশ থেকে আসা অর্থ গ্রহণ করতো ও দেশে অবস্থান করা জঙ্গিদের কাছে পৌঁছে দিতো। সমস্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জন ওয়াইমির অন্যরা ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই অর্থ লেনদেনের বিশদ তথ্য জানা যাবে। প্রার্থিত মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক। শনিবার ভোরে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে এদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪ এর অপারেশন দল।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল, হটি কার্ড পাঞ্চিং মেশিন, পাসপোর্ট, ভোটার আইডিসহ প্রচুর নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। এইসব নথিপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই করে অনেক অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কি পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। এই অর্থ অস্ত্র-বিস্ফোরক ক্রয়, ট্রেনিংসহ অন্যান্য কাজে তারা ব্যয় করতো বলে ধারনা করছে র‍্যাব।

ঢাকায় মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, 'স্পেনের আইটি কম্পানি সিনটেক ও বাংলাদেশের ওয়াইমি একই মালিকের প্রতিষ্ঠান। মালিকের নাম আতাউল হক সবুজ। সে স্পেনে বসবাস করে। তার কম্পানি সিনটেকের মাধ্যমে ওয়াইমি অর্থ পাঠাতো। যার ৪৭ শতাংশ বেতন ও অবকাঠামোগত কাজে ব্যয় হতো। বাকিটা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন হতো। '

র‍্যাব মুখপাত্র আরো জানান, একই মালিকের দুই প্রতিষ্ঠানে স্পেন ও বাংলাদেশে দুই দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একইসঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে। স্পেনে আতাউল হক সবুজকেও আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

র‍্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠানের মালিক আতাউল হক সবুজ ২০১৫ সালে ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ায় বোম্বিংয়ে নিহত জঙ্গি শিপুল হক সুজনের ভাই। বিদেশ থেকে এই জঙ্গি অর্থায়ন আনার কাজ শুরম্নতে সেই করতো। তার মালিকানায় আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার কম্পানি ছিল 'আইবেক'। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নয়টি দেশে তার শাখা ছিল। আইবেকের প্রধান কার্যালয় ছিল আমেরিকায়। ' ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আইবেকের ৫০ হাজার ডলার জঙ্গি অর্থায়নের কাজে ব্যবহারের আগেই র‍্যাবের হাতে আটক হয়। যা জঙ্গি বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেটের মাধ্যমে তামীম চৌধুরীর কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।

জঙ্গি অর্থায়নে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে আইবেক শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের শাখাও বন্ধ করে দেয় সে দেশের কর্তৃপক্ষ। আইবেক বাংলাদেশ শাখায় দেখভালে দায়িত্ব ছিল। প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তারা কীভাবে জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত এমন প্রশ্নে র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, 'আমরা সমস্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আটক করেছি। অধিকতর তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। '


মন্তব্য