kalerkantho


তিস্তপারে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়, পার্ক নির্মাণের দাবি

স্বপন চৌধুরী, রংপুর    

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:৩৮



তিস্তপারে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়, পার্ক নির্মাণের দাবি

আসছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে রংপুরের বিনোদনপ্রেমী মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে।

তবে এবার শহরকেন্দ্রিক বিনোদন কেন্দ্রগুলোর কদর অনেকটা কমে গেছে। বিনোদনপ্রেমীরা কোলাহলমুক্ত এলাকা হিসেবে বেছে নিয়েছে তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট। বিশেষ করে রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুরে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু এলাকা বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়ে জমজমাট। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর এই সেতু উদ্বোধন হলে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর বুড়িমারীসহ লালমনিরহাটের চারটি উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের দূরত্ব আসবে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। এতে একদিকে চলাচলে যেমন সময় কমে আসবে, তেমনি কমবে যাতায়াত খরচ আর প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের।

অন্যদিকে, বহু কাঙ্খিত এই সেতুর নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে তিস্তার দুই পারের মানুষ।

সেতুটি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা ও রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার মধ্যবর্তী তিস্তা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু।

কালীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন 'কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক' খ্যাত কবি শেখ ফজলল করিম আর গঙ্গাচড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন কিংবদন্তী চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন। এই দুই কৃতীর নামে সেতুটির নাম 'শেখ ফজলল করিম-মোনাজাতউদ্দিন সেতু' রাখার দাবি তুলেছে দুই পারের মানুষ। বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বিনোদনপ্রেমীরা ছুটে আসছে এখানে। নবনির্মিত তিস্তা সেতু দেখাসহ তিস্তার পানিতে হাটা, গোসল করা, নৌকা ভাড়া করে ঘুরে বেড়ানো এবং তিস্তাপারের খোলা বাতাসে নদীতে নেমে ক্ষণিকের জন্য হলেও আনন্দ উপভোগ করেন বিনোদনপ্রেমীরা।

সরেজমিনে সেতু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি নেমে গেলেও বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়ে তিস্তা সেজেছে অপরূপ সাজে। শিশুসহ হাজারও নারী-পুরুষ কোলাহলমুক্ত নদীপারে এসে ক্ষণিকের জন্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। আগত মানুষের সুবিধার্থে খেয়াঘাট এলাকায় বসেছে চা, পান ও ফলমূলের অস্থায়ী দোকান। দেখলে মনে হয় যেন তিস্তাঘাট হয়ে উঠেছে কোনও সমুদ্রসৈকত।

মহিপুর ঘাটে আসা নাজমীন, আঞ্জু, শারমীন, আশিক, সিয়াম বলেন, "ঈদের সময় শুনেছি এখানে অনেক ভিড় থাকে। তাই দুর্গা পূজার আগেই সেতু দেখতে এসেছি। তিস্তায় নৌকা ভ্রমন খুব আনন্দ দিয়েছে। এ ছাড়া বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা সেতু নির্মিত হওয়ায় সেটি দেখার সাধ পূরণ হয়েছে। "

আকলিমা, শিল্পী, তুহিন, শামীম জানান, তারা ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। শহরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নতুন কিছু না থাকায় কোলাহলমুক্ত জায়গা হিসেবে তারা বেড়ানোর জন্য এবারে তিস্তাপারকে বেছে নিয়েছেন। তিস্তা সেতু এলাকা লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, "বিভিন্ন উৎসব ছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসে মহিপুর তিস্তাঘাটে। কিন্তু এখানে বিনোদনের তেমন কিছু না থাকায় তারা তাদের মতো করে আনন্দ করে চলে যাচ্ছে। তিস্তা সেতুকে ঘিরে এখানে একটা পার্কের ব্যবস্থা করলে সরকারের যেমন রাজস্ব বাড়বে তেমনি মানুষজন বিনোদনের একটা জায়গা পাবে।


মন্তব্য