kalerkantho


বাকৃবি'র নিজস্ব পরিবহন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:১৭



বাকৃবি'র নিজস্ব পরিবহন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) যাতায়াতের জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেও যথাযথ তদারকি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পুরানো আমলের সূচিতে বাস চলাচল, শিক্ষার্থীদের বাসে তদারকির অভাব, যথাযথ নিয়ম-কানুন না থাকায় প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ থাকছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু থাকলেও কর্মচারীদের জন্য কোনো আলাদা বাস সার্ভিস নেই। আর তাই শিক্ষার্থীদের বাসেই যাতায়াত করেন তারা। এর ফলে বাসের বেশিরভাগ সীটই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের দখলেই চলে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসের ভেতর দাঁড়িয়ে শহরে যেতে হয়। এমনকি ছাত্রীদেরকেও বেশিরভাগ সময় দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়। তখন কর্মচারীরা বাসের সীটে বসে থাকেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও শিক্ষার্থীদের পরিবহন শাখার সেবা নিয়ে ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার অভিযোগ করেও তারা কোনো সমস্যাগুলোর সমাধান পাননি।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন শাখা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথম বাসটি ময়মনসিংহ শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং রাত ৯টায় সর্বশেষ বাসটি পুনরায় ফিরে আসে।

এর মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো বেশ কয়েকবার আসা যাওয়া করলেও তাদের অনেকগুলো সূচিই বিতর্কিত। এতদিনেও কেনো সূচিতে পরিবর্তন করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের অনেকেরই অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদারকির ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেই এমন ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া, শিক্ষার্থীদেরকে প্রতি সেমিস্টারে বাস কার্ডের জন্য ৭২ টাকা জমা দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকেই বাস কার্ড প্রদান করা হয়নি। সকালের বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছেলেমেয়েদেরকে আনা নেয়া করা হয়। বিভিন্ন সময় তাদের কাছে বাস কার্ড চাওয়া না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে বাস কার্ড চাওয়া হয়। অন্যথায় বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থার শিকার হয় তারা।

তাসকিয়া সাদিয়া নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, কর্মচারীরা বাসের ভেতরে বসে থাকেন আর ছাত্রীদেরকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শহরে যেতে হয়। এ নিয়ে তাদেরকে বলা হলে তারা সীট ছাড়তে পারবে না বলে জানায়। আবার অনেক কর্মচারী ২-৫ মিনিটের রাস্তা পারাপারের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সীট দখল করে রাখে। অধিকাংশ মেয়েরা তাদের হলের সামনে থেকে বাসে উঠে বিধায় তারা কোনো সীট পায় না।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেছেন, কর্মচারীদের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা করতে। তাহলে তাদেরকে আর শিক্ষার্থীদের বাসে যাতায়াত করতে হবে না। শিক্ষার্থীদেরও কোনো অভিযোগ থাকবে না। সেই সাথে ক্লাসের সময় অনুযায়ী একটি নতুন বাসের সূচি তৈরি করারও পরামর্শ দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বিকেলে ৪টা ১০ মিনিট ও ৫টা ৫ মিনিটে যে বাসগুলো শহরে যায় তাদেরকেও নতুন সূচির আওতায় আনতে হবে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অর্থ নষ্ট হওয়া থেকে বেঁচে যাবে এবং বাস সার্ভিসের যথাযথ উপকার পাওয়া যাবে। বাসে বহিরাগতদের যাতায়াতে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানায় শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগগুলো শুনতে পাচ্ছি। এ সমস্যাগুলো অনেক আগে থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। আমি মাত্র ৬ মাস হলো এ শাখায় নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে বেশ কিছু সমস্যার সমাধানও করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বাকি সমস্যাগুলোও সমাধান করার ব্যবস্থা করব।


মন্তব্য