kalerkantho


ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শেরপুর প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:১৯



ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতীকী ছবি

শেরপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটির বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী গ্রামে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রীটির মা আজ বুধবার দুপুরে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলাটি করেন।  
 
মামলার আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার সূর্যদী গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. শামিম মিয়া (২২), বারঘরিয়া গ্রামের মৃত নছিমদ্দিনের ছেলে কামারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বারি চাঁন (৫৪), সূর্যদী গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো. মতি (৩৫) ও আমজাদ হোসেনের ছেলে মো. জিয়া (৩৫)।  
 
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি শামিম মিয়া কলেজে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই ছাত্রীটিকে উত্যক্ত করতেন। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে সূর্যদী চারআনীপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর বেশ কিছুদিন বিভিন্নস্থানে নিয়ে শামিম ছাত্রীটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।  
 
পরে ছাত্রীটি শামিমকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রবিবার তিনি মুঠোফোনে ছাত্রীটিকে তাঁর সূর্যদী চারআনীপাড়া গ্রামের বাড়িতে ডেকে আনেন এবং পুনরায় ধর্ষণ করেন। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেলে কামারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসামি আব্দুল বারি ওই ছাত্রীটিকে কুপ্রস্তাব দেন এবং এক পর্যায়ে ছাত্রীটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।  
 
এসময় ছাত্রীটি ডাক-চিৎকার করলে প্রধান আসামি শামিম, মতি ও জিয়া ছাত্রীটির গলায় থাকা ওড়না দিয়ে পেচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে শামিম ছাত্রীটিকে ঘুমের ওষুধ মেশানো কোমল পানীয় পান করান এবং অন্য আসামিদের সহযোগিতায় অলিখিত সাদা স্ট্যাম্প ও কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও টিপসই নেন। পরে সংবাদ পেয়ে গত রবিবার গভীর রাতে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করান।
 
অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার আসামি কামারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারি বলেন, শামিমের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তাঁর ইউনিয়ন পরিষদে উভয়পক্ষকে ডেকেছিলেন। কিন্তু মেয়ে পক্ষ না আসায় তিনি গত রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে মেয়েটিকে হস্তান্তর করেন। মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা তো দূরের কথা তাঁর গায়ে তিনি হাতও স্পর্শ করেননি।  
 
সদর থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন এ ব্যাপারে বলেন, আদালতে মামলার বিষয়টি শুনেছি। আদালতের নির্দেশনা হাতে পেলে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
 
 
 

মন্তব্য