kalerkantho


ভোলায় চালের বাজার অস্থির, উদ্বিগ্ন ক্রেতারা

শিমুল চৌধুরী, ভোলা    

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৮:৩৭



ভোলায় চালের বাজার অস্থির, উদ্বিগ্ন ক্রেতারা

ভোলায় চাল কেনার জন্য ক্রেতাদের তেমন চাপ না থাকলেও মজুদদাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাল মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন চালের খুচরা বিক্রেতারা।

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

তবে, চালের মজুদ রাখার কথা অস্বীকার করে মজুদদাররা জানান, চালের দাম কমতে শুরু করেছে। অপরদিকে, এখানে এখনো ওএমএস'র চাল বিক্রি শুরু না হওয়ায় চালের দাম কমার কোনো  লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

আকস্মিকভাবে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ভোলা শহরের হাসপাতাল রোডের চালের ক্রেতা মনির সাজওয়াল বলেন, "আমি একজন সাধারণ শিক্ষক। সামান্য আয় দিয়ে আমাদের সংসার চলে। কোনো কারণ ছাড়া গত কয়েকদিন ধরে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন। "

একই উদ্বেগের কথা জানিয়ে অপর ক্রেতা শহরের ওয়েস্টার্ন পাড়ার বাসিন্দা হারুন-অর-রশিদ বলেন, "আমরা সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। আমাদের মাসিক আয়ও সীমিত। আমাদের পক্ষে ৬০ টাকা কেজি দরে চাল কিনে খাওয়া সম্ভব নয়।

"

নতুন বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা মুসা কালিমুল্লাহ বলেন, "বর্তমানে মিনিকেট চালের কেজি প্রতি বিক্রি করা হচ্ছে ৬০ টাকা। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকা। গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে এ চালের ৫০ কেজির প্রতি বস্তা বিক্রি করা হয়েছিল দুই হাজার ৬০০ টাকা। আটাশ চালের ৫০ কেজির প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ টাকা দরে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগে এ চালের বস্তা বিক্রি হত দুই হাজার ৪০০ টাকা দরে। আর কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৯ টাকা দরে।

স্বর্ণা চাল ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪৫০ টাকা দরে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৯ টাকা দরে। এক সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতি কেজি চাল বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। ভোলায় চালের বড় বড় মজুদদাররা চালের মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন চালের এ খুচরা বিক্রেতা। আজ সোমবার চালের কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায় বেশ কয়েকটি চালের আড়তে হাজার হাজার বস্তা চাল মজুদ রাখা।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নতুন বাজারের চাল বিক্রেতা মো. ইলিয়াস বলেন, "আমরা স্বর্ণা চালের ৫০ কেজির প্রতি বস্তা কিনে আনছি দুই হাজার ৫০০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল কিনে আনছি ৫০ টাকা দরে। আর বিক্রি করছি কেজি প্রতি ৫২ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগে এ চাল কিনে এনেছি ৫০ কেজির বস্তা দুই হাজার ৩৫০ টাকা ও প্রতি কেজি ৪৭ টাকা দরে। আটাশ চালের কেজি কিনে এনেছি ৫৬ টাকা দরে। আর বিক্রি করছি ৫৮ টাকা দরে। "

ইলিয়াস আরো জানান, তারা মিনিকেট প্রতিকেজি চাল কিনে আনছেন ৬১ টাকা। আর বিক্রি করছেন ৬২ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে এ চালের কেজি কিনে আনতেন ৫৫ টাকা থেকে ৫৬ টাকা দরে। মোটা হাইব্রিট চালের কেজি বিক্রি করছেন ৪৫-৪৬ টাকায়। আগে এ চাল বিক্রি করা হত ৪২-৪৩ টাকা দরে। তিনি আরো বলেন, ভারতের চাল বন্ধ হয়ে গেছে এমন গুজবে তিনি বেশি করে চাল কিনে এনেছিলেন। তিনি নিজেও ভোলার আলম ট্রেডার্স থেকে বেশি দামে চাল কিনেছেন। কিন্তু ভোলায় চালের ক্রেতাদের তেমন চাপ ছিল না।

এ বিষয়ে খালপাড়ের আলম ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মহসিন ও খোকন জানান, তারা স্বর্ণা চালের কেজি বিক্রি করছেন ৪৮ টাকা দরে। আটাশ চালের বস্তা বিক্রি করা হচ্ছে দুই হাজার ৭৩০ টাকা দরে। তারা বলেন, ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে চাল কিনে আনা হয়। তাই বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। মিলাররাই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া ডিলারদের চাল আনার পর প্রায় ৩-৪ হাত ঘুড়ে বাজারে বিক্রি হওয়ার কারনে চালের বাজারে দাম বেড়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন এ দুই ব্যবস্থাপক। এ মুহূর্তে তাদের দোকানে প্রায় চার হাজার বস্তা চাল রয়েছে বলে দাবি করেন।

অপর চালের আড়তদার মক্কা ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি স্বর্ণা চালের কেজি বিক্রি করছেন ৪৭ টাকা দরে। আগে বিক্রি করতেন ৪৯ টাকা দরে। আটাশ চাল ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি করছেন দুই হাজার ৬৫০ টাকা দরে। হাইব্রিড চাল বিক্রি করছেন ৪৪ টাকা কেজি দরে। তিনি আরো বলেন, গত দুই দিন আগেও চালের ক্রেতাদের চাপ ছিল। কিন্তু এখন ক্রেতাদের চাপ নেই। তাই চালের দাম এখন থেকে কমতে শুরু করেছে। মজুদদাররা কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাল মজুদ রেখে চালের দাম বাড়ায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ভোলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এরফানুর রহমান মিথুন মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, "ভোলায় কোনো মজুদদাররা চাল মজুদ করেননি। তবে, ঢাকা ও কুষ্টিয়াসহ বড় বড় শহরে মিল মালিকরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় হঠাৎ চালের দাম বেড়ে গেছে। তবে, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি ও খাদ্যমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে আজ সোমবার চালের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। চালের বাজারে অনেকটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

এদিকে, ভোলায় এখনো ওএমএস'র চাল বিক্রি শুরু না হওয়ায় চালের দামও কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও চলছে না। এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অবনী মোহন দাস বলেন, "আজ মঙ্গলবার থেকে এখানে ওএমএস'র চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। " এ বিষয়ে জানতে আজ সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।  


মন্তব্য