kalerkantho


সাভারে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঘটনায়

বংশী নদ থেকে তিন নারীসহ আরো চারজনের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ২২:৪৪



বংশী নদ থেকে তিন নারীসহ আরো চারজনের লাশ উদ্ধার

ছবি : কালের কণ্ঠ

সাভারে ইঞ্জিন চালিত একটি নৌকাযোগে বংশী নদ পার হয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় বজ্রাঘাতে দুই যাত্রীর মৃত্যু হওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া তিন নারী শ্রমিকসহ আরো চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। আজ বুধবার অপরাহ্ন থেকে বিকেল পর্যন্ত বংশী নদের কর্ণপাড়া ঘাটের আশপাশ এলাকা থেকে মৃতদেহ চারটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। তবে ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ হওয়া আরো ২/১ জনের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি। তাদের খোঁজে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।  

নিখোঁজ চার জনের মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁদের স্বজন ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের আহাজারিতে বংশী নদের তীরবর্তী সাভার পৌর এলাকার কাতলাপুর মহল্লা ভারি হয়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার সকালে বংশী নদের কাতলাপুর ঘাটের অদূরে পারাপারের নৌকায় বজ্রপাতের এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুই জন নিহত ও আহত হয়েছিল অন্তত ১৩ জন যাত্রী। আহতদেন মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অন্য ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুধবার উদ্ধার হওয়া চার জন হলেন, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মোকলেসপুর গ্রামের মোহন লালের ছেলে দীপুলাল (৩২), লালমনিরহাট সদরের দেউতি গ্রামের মাধবচন্দ্র বর্মনের স্ত্রী শিনতি রানি বর্মন (২৫), গাইবান্ধা সদরের তিনদাহ গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী মাহেলা বেগম (২৫) ও নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার শোভাপুর গ্রামের জাহিলুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (২৮)। এরা চারজনই মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর এলাকায় বংশী নদীর তীরে অবস্থিত আখতার ফার্নিচারের শ্রমিক।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা সদর দপ্তরের স্টেশন কর্মকর্তা আল মাসুদ জানান, বজ্রপাতের সময় কয়েকজন নদীতে পড়ে যান। ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কার্যক্রম চালালেও গতকাল মঙ্গলবার রাত গভীর হওয়ায় এবং বৈরি আবহাওয়ার কারণে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়।  

আজ বুধবার সকাল থেকে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পাঁচ সদস্যের ডুবুরি দল আজ বুধবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। নিখোঁজ চারজনের মরদেহ বুধবার দুপুরের উদ্ধার করা হয়। আরো কেউ নিখোঁজ থাকতে পারে। সেজন্য উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করা সম্ভব না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, যারা বজ্রপাতের পর নিখোঁজ হন তাঁরা হলেন, রেবেকা বেগম (৩৩), মাহেলা বেগম (২৫), দীপুলাল (৩২), শিমতি রানী (২৫) ও হোসনে আরা (২৫)। চারজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন রেবেকা। আরো কেউও নিখোঁজ থাকতে পারেন।
সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান শেখ বুধবার চারজনের মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  

ঢাকার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সাভার উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে এই অর্থ তুলে দেন। এ সময় সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ রাসেল হাসান ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমজাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর এলাকায় বংশী নদীর তীরে গড়ে ওঠা আখতার, নাদিয়া ফার্নিচারসহ মিলন গার্মেন্টে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এসকল শ্রমিকদের অধিকাংশই থাকেন সাভারে। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে তাঁদের পারাপার করা হয়।  


মন্তব্য