kalerkantho


ফেসবুকে ভাইরাল

প্রখর রোদে ছাত্রকে দুই পা বেঁধে শাস্তি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ২১:৩১



প্রখর রোদে ছাত্রকে দুই পা বেঁধে শাস্তি!

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় এক স্কুল ছাত্রের পা বাঁধা ছবি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া যাবে না- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন  নির্দেশনা সত্ত্বেও শিক্ষকদের এমন আচরণ সচেতন মহলকে হতবাক করেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় ওই ছাত্রের দুই পা দড়ি দিয়ে বাইরে প্রখর রোদে দাঁড় করিয়ে রাখার হয়। এ ঘটনা ঘটিয়েছেন কমর আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক।

গত রবিবার ঘটনাটি ঘটলেও মঙ্গলবার ওই ছাত্রের ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় গণমাধ্যমকর্মীদের।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে নবম শ্রেণির এক ছাত্র বিদ্যালয়ে না এসে সস্তাপুরের মোড়ে কাজী স্টোরে আড্ডা দেয়। এ সময় কলেজ শাখার বাংলা বিভাগের প্রভাষক আল মামুন ওই ছাত্রের কাছে  বিদ্যালয়ে না যাওয়ার কারণ জানতে চান। জবাবে ছাত্র জানায়, সে ব্যাচে পড়তে এসেছে। শিক্ষক মামুন ছাত্রের মা-বাবার মোবাইল ফোন নম্বর চান।

এ পর্যায়ে ভীত সন্ত্রস্ত ছাত্রটি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে শিক্ষক মামুন তাকে ধরে স্কুলে নিয়ে আসেন।

পরে তার পায়ে দড়ি বেঁধে স্কুল মাঠে প্রখর রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখেন তিনি। তবে এ ঘটনার ছবি তুলে ফেসবুকে কেউ একজন আপলোড করে। গতকাল মঙ্গলবার তা ব্যাপকেভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আল মামুন বলেন, "স্কুল ফাঁকি দিয়ে আড্ডা মারায় কাজী স্টোর থেকে তাকে ধরে এনে রৌদ্রে দাঁড় করিয়ে রাখা হলেও পা বাঁধা হয়নি। ছবিটি এডিট করা এবং এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। "

যোগাযোগ করলে কমর আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র নাথ ভদ্র বলেন, "ঘটনার সময় আমি স্কুলে ছিলাম না। পরে শুনেছি। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। "

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠারটির শিক্ষকরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আল মামুন মূলত স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জেলা মহিলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রফেসর ড. শিরীন বেগমের ঘনিষ্ঠজন।

প্রফেসর শিরীন কমর আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাড়াও বন্দরের কদমরসুল কলেজেরও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদে রয়েছেন। প্রফেসর শিরীনের ক্ষমতার দাপটেই মূলত আল মামুন প্রভাষক পদ থেকে প্রথমে সমন্বয়ক ও পরে উপাধ্যক্ষের পদমর্যাদায় একাডেমিক দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রফেসর ড. শিরীন বেগম কয়েক বছর আগে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

শিরীন বেগমের স্বামী সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে কমর আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ড. শিরীন বেগম জানান, ঘটনাটি তিনি জানেন না। তিনি খোঁজ খবর নেবেন। শিক্ষক আল মামুনকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ ও অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতেবিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি নিজেকে অসুস্থ দাবি করে জানান- এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুরাইয়া আশরাফি বলেন, "সরকারিভাবে নিষেধ রয়েছে, কোনো ছাত্রকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। সস্তাপুরের ঘটনা আমার জানা নেই। মঙ্গলবার ছুটিতে আছি। বুধবার অফিসে গিয়ে বিস্তারিত খবর নেব। "


মন্তব্য